ঈশ্বরদীর পাকশীতে পদ্মা নদীজুড়ে বিস্তীর্ণ চর ও পানিশূন্য অবস্থার সৃষ্টি
হয়েছে। পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কবিবুর রহমান জানান,
পানির স্তর ৩০-৪০ ফুট নিচে নেমে গেছে, ফলে পদ্মা নদী এখন মরা খালে পরিণত
হয়েছে।
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় জলবায়ু পরিবর্তন; কিন্তু পদ্মা
নদীবেষ্টিত ৬টি জেলার অন্তত ২ কোটি মানুষ ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে
ক্ষতিগ্রস্ত। দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প, পাবনা সেচ ও পল্লী
উন্নয়ন প্রকল্প, পানাসি প্রকল্প, বরেন্দ্র প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের
হাজার হাজার একর জমিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও পাম্প ব্যবহার করেও সেচ
দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঈশ্বরদীর পাকশী পদ্মা নদীর ওপর প্রতিষ্ঠিত হার্ডিঞ্জ
ব্রিজের ১৫টি পিলারের মধ্যে ১১টি পিলারই এখন শুকনো চরে দাঁড়িয়ে আছে। যে
৪টি পিলার পানিতে রয়েছে তার আশপাশে মানুষ চাষাবাদ করছে। পানি উন্নয়ন
বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ফারাক্কার প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের ৫৪টি নদী
শুকিয়ে গেছে, শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ছে।
পাবনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জামানুর রহমান
জানান, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর এত নিচে নেমে গেছে যে, এভাবে চললে ১০ বছর পর এ
অঞ্চলে পানি পাওয়া কঠিন হবে। তা ছাড়া বৃষ্টিপাত না থাকায় বিশুদ্ধ পানির
প্রাপ্যতাও দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রকৌশলী কবিবুর রহমান আরও বলেন,
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর নদীগুলোর ভূগর্ভস্থ উচ্চতা বেড়েছে এবং
পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। পানিপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক
জরুরি বলে তিনি মনে করেন। ভেড়ামারা পাম্প স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী
মোশারফ হোসেন বলেন, পানি না পাওয়ায় ইতিমধ্যে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ পাম্প বন্ধ
হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে।
No comments:
Post a Comment