Tuesday, January 3, 2012

চলনবিলে বোরো আবাদে ব্যয় বাড়বে ৩৭ কোটি টাকা

জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বৃদ্ধি পাওয়ায় চলনবিলের কৃষকদের প্রায় ৩৭ কোটি টাকা বোরো আবাদে জ্বালানি খরচ বাড়বে। এ দিকে দফায় দফায় তেলের দাম বাড়ায় কৃষকরা বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে, জ্বালানি তেল ডিজেলের দাম আবার লিটার প্রতি ৫ টাকা বেড়ে সর্বশেষ ৬১ টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা গত বছরের বোরো মৌসুমে ছিল ৪৬ টাকা। কৃষি অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলনবিলের প্রধান আবাদ হচ্ছে বোরো। বিলপাড়ের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, পাবনার ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া ও নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়ে থাকে। তার মধ্যে ১ লাখ ৫০ থেকে ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে ডিজেল চালিত শ্যালোমেশিন দিয়ে পানি সেচ দেওয়া হয়। স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলনবিলের বিভিন্ন জায়গায় প্রকারভেদে প্রতি বিঘা জমিতে বোরো আবাদে প্রায় ২২-২৪ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। গত মৌসুমে কৃষক সর্বশেষ ৪৬ টাকায় ডিজেল কিনে আবাদ করলেও ধান ওঠার পর উৎপাদন ব্যয় এবং ধানের বিক্রয় মূল্যের সমন্বয় না থাকায় বোরোতে যে লাভ করার কথা তা হয়নি।
বর্তমান বোরো মৌসুমে চলনবিলে ইতিমধ্যেই বোরো ধান লাগানো শুরু হয়েছে। কিন্তু বোরো আবাদ নিয়ে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মধ্যবিত্ত কৃষক দফায় দফায় ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরো আবাদে সেচের নির্ধারিত বাজেট ছাড়িয়ে যাওয়ায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তা ছাড়া ডিজেলে গত বছর ভর্তুকি না পাওয়ায় কৃষককে নিজস্বভাবেই ব্যয়ভার মেটাতে হয়েছে। লালুয়ামাঝিড়া গ্রামের কৃষক ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রতি একরে এ বছর গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় দুই হাজার ৩০০ টাকা অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে।
এ দিকে সরকার নির্ধারিত ডিজেলের দাম ৬১ টাকা থাকলেও চলনবিলের বিভিন্ন হাটবাজারে খুচরা এবং পাইকারি বিক্রেতারা ৬১ টাকার স্থলে ৬৩ টাকা কৃষকের কাছ থেকে আদায় করে নিচ্ছেন। গ্রাম পর্যায়ের খুচরা ডিজেল বিক্রেতারা আরও বেশি নিয়ে থাকেন বলে কালিদাসনীলি গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া জানান। আবার অনেক তেল ব্যবসায়ী কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সরবরাহ না করে অল্প পরিমাণ দিয়ে মজুদ গড়ে তোলার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিজেলের দাম বাড়লেও ধানের দাম বাড়েনি। ফলে বছর বছর বোরো ধান উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় দিন দিন বেড়েই চলেছে। অথচ কৃষকের উৎপাদিত বোরো ধান বিক্রি করার পর যে দাম পাওয়া যায় তাতে কৃষকের উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হয়। এ দিকে তেলের দাম বাড়ার আগে যে সব তেল ব্যবসায়ী দোকানে মজুদ তেল রেখেছিলেন তা বর্ধিত মূল্যে বিক্রি করছেন। আগের দামে কেনা তেল ওই দামে কেন বিক্রি হচ্ছে না এ প্রশ্ন করলে একাধিক তেল ব্যবসায়ী বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেছেন, তাদের মজুদ নেই।

গরু চোর আর গরু চুরি সাত দিনে ২১টি

কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভার নাওডাঙ্গা গ্রামে গত ৭ দিনে ২১টি গরু ও ৬টি ভেড়া চুরির যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে গত ৩১ ডিসেম্বর পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে লাবলুর বাড়ির গ্রিল কেটে বাজাজ, পালসার মোটরসাইকেল চুরি যাওয়াসহ প্রতিদিন ছোটখাটো চুরির ঘটনার ফলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে পৌরবাসীর জীবন। জানা যায়, নাওডাঙ্গা গ্রামবাসী পাহারা দিয়ে চোর ধরে থানায় দিলে ৬ ঘণ্টার মধ্যে ওই চোরকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এতে আতঙ্কিত জনসাধারণ গোয়াল ঘরে নিদ্রাহীন রাত যাপন করছে। গ্রামবাসীর অভিযোগ, এত চুরির ঘটনার পরও পুলিশি সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। বরং পুলিশি সহযোগিতায় চলছে যাত্রা ও জুয়া আসর। অভিযোগ রয়েছে, জুয়া যে গ্রামে চলে, সে গ্রামে সমান তালে চলে চুরির ঘটনা। নিরুপায় গ্রামবাসী চোরের সঙ্গে সমঝোতা করে ২টি গরু উদ্ধার করলেও বাকিগুলো উদ্ধার করতে পারেনি বলে জানা যায়। এসব চুরির ব্যাপারে কেউ থানায় মামলা করেনি, ধরা চোরকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার কারণে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চুরির মামলা করলে, পুলিশ তাদের হয়রানি করে। গরু পাওয়া যায় না, উল্টো হয়রানি, তার চেয়ে চোরের সহযোগিতায় গরু উদ্ধারের পথ বেছে নিয়েছে বলে তারা জানায়। এ ব্যাপারে উলিপুর থানার ওসি (তদন্ত) নাসির উদ্দিন জানান, গরু চুরির ঘটনা জানেন না। তবে সেদিন শহরের চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছেন বলে জানান।

অমানবিক নির্যাতনের শিকার আফগান বালিকাবধূ

সাত মাস আগে বিয়ে হয় ১৪ বছর বয়সী আফগান বালিকা সাহারা গুলের। বিয়ের পরই শ্বশুরবাড়িতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয় সাহারা। কয়েক মাস ধরে গৃহবন্দি রেখে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায় শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। হাতের নখ তুলে, মাথার চুল তুলে নির্যাতন করে তার স্বামী ও শাশুড়ি। শরীরের বিভিন্ন জায়গা সিগারেটের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। কয়েক মাস ধরে সাহারাকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে দেখা করতে না দিলে পুলিশের সহায়তা নেয় তার পরিবার। এরপরই বাগালান প্রদেশের পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাহারাকে একটি বদ্ধ, অন্ধকার কামরা থেকে উদ্ধার করে। বর্তমানে কাবুলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসারত আছে সাহারা। সম্প্রতি এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। সাহারা গুলের নির্যাতনের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন কারজাই। বাগলান প্রদেশের পুলিশ কমকর্তারা জানান, তাকে নিচতলার ঘরে একটি মোটা পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এখান থেকে বের করে মুমূর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পতিতাবৃত্তিতে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর করা হয়েছিল বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে বাল্য বিবাহ এবং নারী নির্যাতন একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। গত বছরই দেশটিতে প্রায় ৩ হাজার নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে। তবে মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, এ সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। নির্যাতিত অধিকাংশ নারীকে গৃহবন্দি করে রাখার কারণে তারা আইনের সাহায্য পাচ্ছে না। খবর সিএনএন, বিবিসি, এএফপি।

বগুড়ায় কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন


বগুড়ার বনানী খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর আয়োজিত ৫ দিনব্যাপী কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রযুক্তি মেলা গত রোববার উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করেন বগুড়া-১ এলাকার সাংসদ আবদুল মান্নান। জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম জিন্নাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরুন নবী, বগুড়া বিআরডিসির উপ-পরিচালক সাবিনা পারভীন। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আসাদুর রহমান দুলু, যাহেদুর রহমান যাদু, রেবেকা সুলতানা ও সফল কৃষক শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।