জ্বালানি তেলের দাম আরেক দফা বৃদ্ধি পাওয়ায় চলনবিলের কৃষকদের প্রায় ৩৭ কোটি
টাকা বোরো আবাদে জ্বালানি খরচ বাড়বে। এ দিকে দফায় দফায় তেলের দাম বাড়ায়
কৃষকরা বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
জানা গেছে, জ্বালানি তেল ডিজেলের দাম আবার লিটার প্রতি ৫ টাকা বেড়ে সর্বশেষ
৬১ টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা গত বছরের বোরো মৌসুমে ছিল ৪৬ টাকা। কৃষি অধিদফতর
সূত্রে জানা গেছে, চলনবিলের প্রধান আবাদ হচ্ছে বোরো। বিলপাড়ের সিরাজগঞ্জের
তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, পাবনার ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর,
নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া ও নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার
হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়ে থাকে। তার মধ্যে ১ লাখ ৫০ থেকে ৫৫ হাজার হেক্টর
জমিতে ডিজেল চালিত শ্যালোমেশিন দিয়ে পানি সেচ দেওয়া হয়। স্থানীয় কৃষকরা
জানান, চলনবিলের বিভিন্ন জায়গায় প্রকারভেদে প্রতি বিঘা জমিতে বোরো আবাদে
প্রায় ২২-২৪ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। গত মৌসুমে কৃষক সর্বশেষ ৪৬ টাকায়
ডিজেল কিনে আবাদ করলেও ধান ওঠার পর উৎপাদন ব্যয় এবং ধানের বিক্রয় মূল্যের
সমন্বয় না থাকায় বোরোতে যে লাভ করার কথা তা হয়নি।
বর্তমান বোরো মৌসুমে চলনবিলে ইতিমধ্যেই বোরো ধান লাগানো শুরু হয়েছে।
কিন্তু বোরো আবাদ নিয়ে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মধ্যবিত্ত কৃষক দফায় দফায়
ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বোরো আবাদে সেচের নির্ধারিত বাজেট ছাড়িয়ে যাওয়ায়
শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তা ছাড়া ডিজেলে গত বছর ভর্তুকি না পাওয়ায় কৃষককে
নিজস্বভাবেই ব্যয়ভার মেটাতে হয়েছে। লালুয়ামাঝিড়া গ্রামের কৃষক ফরিদুল ইসলাম
জানান, প্রতি একরে এ বছর গত মৌসুমের চেয়ে প্রায় দুই হাজার ৩০০ টাকা
অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে।
এ দিকে সরকার নির্ধারিত ডিজেলের দাম ৬১ টাকা থাকলেও চলনবিলের বিভিন্ন
হাটবাজারে খুচরা এবং পাইকারি বিক্রেতারা ৬১ টাকার স্থলে ৬৩ টাকা কৃষকের কাছ
থেকে আদায় করে নিচ্ছেন। গ্রাম পর্যায়ের খুচরা ডিজেল বিক্রেতারা আরও বেশি
নিয়ে থাকেন বলে কালিদাসনীলি গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া জানান। আবার অনেক তেল
ব্যবসায়ী কৃষকের প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সরবরাহ না করে অল্প পরিমাণ দিয়ে মজুদ
গড়ে তোলার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিজেলের দাম বাড়লেও ধানের দাম
বাড়েনি। ফলে বছর বছর বোরো ধান উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় দিন দিন বেড়েই চলেছে।
অথচ কৃষকের উৎপাদিত বোরো ধান বিক্রি করার পর যে দাম পাওয়া যায় তাতে কৃষকের
উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হয়। এ দিকে তেলের দাম বাড়ার আগে যে সব তেল
ব্যবসায়ী দোকানে মজুদ তেল রেখেছিলেন তা বর্ধিত মূল্যে বিক্রি করছেন। আগের
দামে কেনা তেল ওই দামে কেন বিক্রি হচ্ছে না এ প্রশ্ন করলে একাধিক তেল
ব্যবসায়ী বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেছেন, তাদের মজুদ নেই।
No comments:
Post a Comment