জ্বালানি তেলের আবার দাম বৃদ্ধিকে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার
এক আলোচনা সভায় সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, “এর ফলে
দ্রব্যমূল্য, পরিবহন ব্যয় ও কৃষি পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়বে, যা জনগণের
ভোগান্তি বাড়াবে। এই মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার জনগণকে ইংরেজি নববর্ষের
উপহার দিয়েছে।” সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে পাঁচ
টাকা করে শুক্রবার বাড়িয়েছে সরকার। এ নিয়ে এই বছরে চতুর্থ বার তেলের দাম
বাড়ানো হলো। কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন
মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায়
বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের সমালোচনা করেন ফখরুল। তিনি বলেন, জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বার বার বাড়ানোর ফলে কৃষকদের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। “সরকার
গত তিন বছরে কৃষকদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। সারের মূল্য দফায় দফায়
বাড়িয়েছে। ফলে কৃষকদের উৎপাদন খরচও উঠছে না,” বলেন সাবেক কৃষি
প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, এই বছর আলুর ফলন বেশি হলেও কৃষকরা উৎপাদন খরচ ওঠাতে পারছেন না। এ জন্য সরকারের ‘ভ্রান্ত’ নীতিকে দায়ী করেন তিনি।
‘ব্যর্থতা’
ঢাকতে সরকার বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন,
“একটার পর একটা মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার বিরোধী দলকে দাবিয়ে রাখার
ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ১৮ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের দিন তারা
(সরকার) নিজেরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তার দোষ বিএনপির ওপর চাপাচ্ছে।” সরকার পতনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
Saturday, December 31, 2011
৪০ বছরেও শহীদ পরিবারের সদস্যের স্বীকৃতি মেলেনি
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ঠাকুরগাঁওয়ের এক পল্লীর শত শত নারী বিধবা হন। তাদের
স্বামীদের পাকসেনারা গুলি করে হত্যা করে। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪০ বছরেও এসব
নারী শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। পাননি সরকারি
সুযোগ-সুবিধা। এমনকি স্বাধীনতা বা বিজয় দিবসেও কেউ তাদের খবর নেন না। অভাবী
এসব পরিবারের সবাই আজ অনাহারে-অর্ধাহারে দিনযাপন করছেন। বয়সের ভারে অনেকে
ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন। প্রচণ্ড এ শীতে তাদের ভাগ্যে জোটেনি এক টুকরো গরম
কাপড়ও। স্বামীহারা নয়ানী বেওয়ার কথা, 'হামার ভাতার (স্বামী) গ্যালাকগে মারি
ফ্যালাইল, হামারগিলাক ক্যানে ভগবান বাঁচি থুইলগে, হামাকও মারি ফ্যালান। আর
সবার পারছি না'। ঠাকুরগাঁওয়ের বিধবাপল্লী বলে পরিচিত জগন্নাথপুর গ্রামের
সব বিধবারই মনের কথা এটি।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গ্রাম জগন্নাথপুর। '৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে ওই গ্রামসহ পাশের আরও ৩ গ্রামের প্রায় ২৫০ জন নারীর স্বামীকে পাকসেনারা নির্মমভাবে হত্যা করে। সরেজমিন জগন্নাথপুর গ্রামে গিয়ে কথা হয় স্বামীহারা ওইসব নারীর সঙ্গে। তারা সবাই অভাবী, দিন আনে দিন খায়। তাদের দেওয়া বর্ণনা মতে, প্রাণে বাঁচতে জগন্নাথপুর, চকহলীদ, সিঙ্গিয়া, চণ্ডিপুর, আলমপুর, শুকানপুকুর, ঢাবঢুবসহ বহু গ্রামের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু '৭১ সালের ২৩ এপ্রিল ভারতের উদ্দেশে রওনা দেয়। প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরে জাটিভাঙ্গায় তাদের পথরোধ করে এ দেশীয় কিছু পাকিস্তানি দালাল। ২৪ এপ্রিল সকালে দুই ট্রাক পাকসেনা চলে আসে জাটিভাঙ্গায়। রাজাকাররা সব পুরুষকে মিছিল করার কথা বলে নিয়ে যায় জাটিভাঙ্গা মাঠে। পাক বাহিনী সেখানে লাইন করে মেশিনগানের গুলিতে হত্যা করে সব পুরুষকে। এর সংখ্যা ছিল দু'সহস্রাধিক।
স্বামীহারা দুঃখিনী বেওয়া বয়সের ভারে এখন ন্যুব্জ। তবে স্মৃতিশক্তি এখনও প্রখর। তিনি বলেন, 'আর হামার কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতা পামো! স্বামীয়ও যুদ্ধে হারাইছি। কে রাখে হামার খবর'; একইভাবে পবনসরি, পামতি, সুশীলা ও গঠনবালা বলেন, 'দ্যাখেছেন না বারে হামার গেলার অবস্থা, মইরবার লাগছি। ভাতারগুলাক (স্বামী) অ্যালা মারি ফেলাইল, হামারগুলাকও মারি ফ্যালাউক। মাইনসে কয়, বয়স হইলে টাকা পাওয়া যায়, তাহো পাইনো না। আর কতদিন পর হামরা বয়স্ক ভাতা পামো'!
এ ব্যাপারে জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সাইয়েদা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিয়মানুযায়ী যাদের বয়স্ক ভাতা দেওয়া প্রয়োজন তাদের দেওয়া হয়েছে। তবে যুদ্ধকালে পাকবাহিনীর হাতে নিহতদের বয়স্ক স্ত্রীরা এ ভাতা পেয়েছেন কি-না তা তিনি বলতে পারেননি। আর তাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা নেই বলেও জানান তিনি। জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান লিটন বলেন, চলতি শীতে তাদের (বিধবা) কাউকে শীতবস্ত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্বামীহারা এসব নারীর ব্যাপারে বলা হচ্ছে, তাদের স্বামীরা যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ বা নিহত হননি, তাই তারা শহীদ পরিবারের সদস্য হবেন কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জীতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, তারা শহীদ পরিবারের সদস্য হবেন কি-না এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে সংশিল্গষ্ট মন্ত্রণালয়ে লেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া বিধবাদের পুনর্বাসনের জন্য জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে। ঠাকুরগাঁও নাগরিক কমিটির সভাপতি ডা. শেখ ফরিদ আহমেদ তাদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে স্বামীহারা এসব নারী একত্র হয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের সাহায্যের জন্য স্মারকলিপি দেন। ডা. ফরিদ জানান, দীর্ঘ ৪০ বছরে কেবল একবার ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে তাদের সামান্য কিছু অর্থ সাহায্য দেওয়া হয়েছিল।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গ্রাম জগন্নাথপুর। '৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে ওই গ্রামসহ পাশের আরও ৩ গ্রামের প্রায় ২৫০ জন নারীর স্বামীকে পাকসেনারা নির্মমভাবে হত্যা করে। সরেজমিন জগন্নাথপুর গ্রামে গিয়ে কথা হয় স্বামীহারা ওইসব নারীর সঙ্গে। তারা সবাই অভাবী, দিন আনে দিন খায়। তাদের দেওয়া বর্ণনা মতে, প্রাণে বাঁচতে জগন্নাথপুর, চকহলীদ, সিঙ্গিয়া, চণ্ডিপুর, আলমপুর, শুকানপুকুর, ঢাবঢুবসহ বহু গ্রামের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ ও শিশু '৭১ সালের ২৩ এপ্রিল ভারতের উদ্দেশে রওনা দেয়। প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তরে জাটিভাঙ্গায় তাদের পথরোধ করে এ দেশীয় কিছু পাকিস্তানি দালাল। ২৪ এপ্রিল সকালে দুই ট্রাক পাকসেনা চলে আসে জাটিভাঙ্গায়। রাজাকাররা সব পুরুষকে মিছিল করার কথা বলে নিয়ে যায় জাটিভাঙ্গা মাঠে। পাক বাহিনী সেখানে লাইন করে মেশিনগানের গুলিতে হত্যা করে সব পুরুষকে। এর সংখ্যা ছিল দু'সহস্রাধিক।
স্বামীহারা দুঃখিনী বেওয়া বয়সের ভারে এখন ন্যুব্জ। তবে স্মৃতিশক্তি এখনও প্রখর। তিনি বলেন, 'আর হামার কত বয়স হলে বয়স্ক ভাতা পামো! স্বামীয়ও যুদ্ধে হারাইছি। কে রাখে হামার খবর'; একইভাবে পবনসরি, পামতি, সুশীলা ও গঠনবালা বলেন, 'দ্যাখেছেন না বারে হামার গেলার অবস্থা, মইরবার লাগছি। ভাতারগুলাক (স্বামী) অ্যালা মারি ফেলাইল, হামারগুলাকও মারি ফ্যালাউক। মাইনসে কয়, বয়স হইলে টাকা পাওয়া যায়, তাহো পাইনো না। আর কতদিন পর হামরা বয়স্ক ভাতা পামো'!
এ ব্যাপারে জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক সাইয়েদা সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নিয়মানুযায়ী যাদের বয়স্ক ভাতা দেওয়া প্রয়োজন তাদের দেওয়া হয়েছে। তবে যুদ্ধকালে পাকবাহিনীর হাতে নিহতদের বয়স্ক স্ত্রীরা এ ভাতা পেয়েছেন কি-না তা তিনি বলতে পারেননি। আর তাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা নেই বলেও জানান তিনি। জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান লিটন বলেন, চলতি শীতে তাদের (বিধবা) কাউকে শীতবস্ত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্বামীহারা এসব নারীর ব্যাপারে বলা হচ্ছে, তাদের স্বামীরা যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ বা নিহত হননি, তাই তারা শহীদ পরিবারের সদস্য হবেন কি-না তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জীতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, তারা শহীদ পরিবারের সদস্য হবেন কি-না এ বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে সংশিল্গষ্ট মন্ত্রণালয়ে লেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া বিধবাদের পুনর্বাসনের জন্য জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে। ঠাকুরগাঁও নাগরিক কমিটির সভাপতি ডা. শেখ ফরিদ আহমেদ তাদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে স্বামীহারা এসব নারী একত্র হয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের সাহায্যের জন্য স্মারকলিপি দেন। ডা. ফরিদ জানান, দীর্ঘ ৪০ বছরে কেবল একবার ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে তাদের সামান্য কিছু অর্থ সাহায্য দেওয়া হয়েছিল।
মহাকাশে শয়তানের চোখ
মহাকাশে শয়তানের চোখের মতো দেখতে তারকামণ্ডলের সন্ধান পেয়েছেন
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নাসার
জ্যাকোবাস ক্যাপটিয়ান টেলিস্কোপে সম্প্রতি এটি ধরা পড়ে। টেলিস্কোপে ওই
তারকারাজির দিকে তাকালে মনে হয়, ওটা যেন পৃথিবীর দিকে ক্রুদ্ধ ভ্রুকুটি
করছে। খবর দ্য ডেইলি মেইল অনলাইনের। নাসা কর্মকর্তা গ্রিজমোদো বলেন, নাসার
চন্দ্র এক্স-রে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র
থেকে এক মিটার ব্যাসের জ্যাকোবাস ক্যাপটিয়ান টেলিস্কোপ দিয়ে আকাশ পর্যবেক্ষণ করার সময় পৃথিবী থেকে ৪ হাজার ৩০০ আলোকবর্ষ দূরে এক ছায়াপথের কেন্দ্রস্থলে একটি তারকামণ্ডল চোখে পড়ে। সেটি আসলে এক ক্রমবর্ধমান কৃষ্ণ গহ্বরের দিকে এগোচ্ছে। এ কারণে কৃষ্ণ গহ্বরের গ্যাস এবং এ তারকামণ্ডলের আগুনের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া হচ্ছে। ওই বিক্রিয়ার দৃশ্যপট দেখতে অনেকটাই চোখের মতো। মনে হয়, ওই অগি্নশর্মা চোখটি পৃথিবীর দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। জ্বলজ্বল করছে ওই চোখের রক্তিম ভ্রু দুটি এবং ঝরছে বিপুল পরিমাণ নীল রশ্মি, যা ভয় পাইয়ে দেয়।
তিনি আরও জানান, বিজ্ঞানীরা এখন পরীক্ষা করে দেখছেন ওই বর্ধিষ্ণু কৃষ্ণ গহ্বরের সঙ্গে নক্ষত্রের আগুন ও গ্যাসের কী ধরনের রাসায়নিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হচ্ছে।
থেকে এক মিটার ব্যাসের জ্যাকোবাস ক্যাপটিয়ান টেলিস্কোপ দিয়ে আকাশ পর্যবেক্ষণ করার সময় পৃথিবী থেকে ৪ হাজার ৩০০ আলোকবর্ষ দূরে এক ছায়াপথের কেন্দ্রস্থলে একটি তারকামণ্ডল চোখে পড়ে। সেটি আসলে এক ক্রমবর্ধমান কৃষ্ণ গহ্বরের দিকে এগোচ্ছে। এ কারণে কৃষ্ণ গহ্বরের গ্যাস এবং এ তারকামণ্ডলের আগুনের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া হচ্ছে। ওই বিক্রিয়ার দৃশ্যপট দেখতে অনেকটাই চোখের মতো। মনে হয়, ওই অগি্নশর্মা চোখটি পৃথিবীর দিকে ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। জ্বলজ্বল করছে ওই চোখের রক্তিম ভ্রু দুটি এবং ঝরছে বিপুল পরিমাণ নীল রশ্মি, যা ভয় পাইয়ে দেয়।
তিনি আরও জানান, বিজ্ঞানীরা এখন পরীক্ষা করে দেখছেন ওই বর্ধিষ্ণু কৃষ্ণ গহ্বরের সঙ্গে নক্ষত্রের আগুন ও গ্যাসের কী ধরনের রাসায়নিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হচ্ছে।
জ্বালানী তেলের মূল্য ফের বৃদ্ধি; জীবনযাত্রা দুর্বিষহ
দফায় দফায় জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে জনজীবনে
দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্টি হবে। অর্থনীতির অস্থিরতা আরও বাড়বে। এমন অভিমত
দিয়েছেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও বিশিষ্টজনরা। তারা জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির
পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় কমানোর পরামর্শ
দেন। তাদের অভিমত, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে জ্বালানির দাম
বৃদ্ধির সরকারি যুক্তি সঠিক নয়। বরং গত দেড় বছরে জ্বালানির আমদানি ব্যয়
প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ার কারণেই সরকারকে বারবার দাম বাড়াতে হচ্ছে। এদিকে
জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির পর বাস ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণা আসছে আজ শনিবার। গতকাল
শুক্রবার পরিবহন নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া
হয়নি। এদিকে বারবার রাতের আঁধারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণায়
বৈঠকে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন খোদ আওয়ামী লীগ সমর্থক পরিবহন নেতারাই।
যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদের আগে থেকে কিছু না জানিয়েই
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।
বাড়ছে জ্বালানির দাম, বাড়ছে জনদুর্ভোগ :গত বৃহস্পতিবার রাতে আকস্মিকভাবে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে চলতি বছরের ৫ মে, ১৮ সেপ্টেম্বর এবং ১০ নভেম্বর তিন দফা ভাড়া বাড়ানো হয়। গত সাত মাসে এবার চতুর্থবারের মতো জ্বালানির দাম বাড়ল। চলতি মাসেই বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। এ ছাড়া আছে লাগামহীন বাড়ি ভাড়া, বাজারে সকাল-বিকেল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি। ফলে স্বল্প ও মধ্যআয়ের মানুষকে আগের চেয়ে বেশি আয় করেও মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষের অবস্থা আরও শোচনীয়।
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক অর্থনীতিবিদ জায়েদ বখত বলেন, মাস তিনেক আগে জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বর্তমানে পুরোপুরি স্থিতিশীল। তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হচ্ছে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জ্বালানি তেল আমদানির পরিমাণ আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বাড়তি তেল আমদানি করতে গিয়ে বাজেট ঘাটতি বাড়ছে। এ ছাড়া বৈদেশিক সাহায্য, রেমিট্যান্স এবং বিদেশি বিনিয়োগ থেকেও আশানুরূপ বৈদেশিক মুদ্রা আসছে না। ফলে একদিকে বেশি আমদানি, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমে যাওয়ায় ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নও
ঘটছে অনেক বেশি। ১১ দশমিক ৫৮ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতির চাপ পুরো অর্থনীতিকে সংকটজনক করে তুলেছে। অর্থনীতির এই সংকট মোকাবেলার জন্যই বারবার দাম বাড়ছে। এর পাশাপাশি দাতা সংস্থার চাপও আছে। আইএমএফের কাছ থেকে এক বিলিয়ন ডলারের যে ঋণ সাহায্য পাওয়ার কথা, তার জন্যও ওই সংস্থার পক্ষ থেকে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের চাপ আছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, জ্বালানির দাম যেটা বেড়েছে সেটা শতাংশে খুব বেশি নয়। কিন্তু রেওয়াজ হচ্ছে, জ্বালানির দাম বাড়লে তার সঙ্গে গণপরিবহনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক কিছুর দাম বাড়বে। দাম বাড়লে জনগণের কষ্ট হবে। অর্থনীতির অবস্থা ভালো হলে জনগণের কষ্ট বাড়িয়ে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করার কথা নয়।
একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা ড.মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের উপায় ছিল না। কারণ এর আগে দুই দফায় দাম বাড়িয়ে যে আয় হয়েছে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকা অবমূল্যায়নের কারণে তার পুরোটাই চলে গেছে।
সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তৈরি পোশাক মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে, গণপরিবহনের খরচ বাড়বে, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে, শিল্পে উৎপাদন খরচ বাড়বে। সরকারের সামনে যেমন ভর্তুকি কমাতে দাম বাড়ানো ছাড়া পথ নেই, আমাদের সামনেও তেমনি সংকট। ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়লে আমাদের শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার ধরে রাখা কষ্ট হবে।
বাস ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আজ : বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর গতকাল শুক্রবার পরিবহনের ভাড়া বাড়েনি। শুক্রবার সরেজমিন ঘুরে কোনো বাসেই বাড়তি ভাড়া নিতে দেখা যায়নি। রাজধানীতে চলাচলরত অধিকাংশ বাস সিএনজিচালিত। অন্যদিকে বেশিরভাগ দূরপাল্লার বাস চলে ডিজেলে। ফলে একবার জ্বালানি তেল এবং সিএনজির মূল্য পৃথকভাবে বাড়ানো হলে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সংকটে পড়তে হয় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে। এই সংকট আরও তীব্র হয় আগে থেকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি অবহিত না হওয়ার কারণে। গতকাল শুক্রবার সড়ক ভবনে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে সেই সংকটের কথাই উঠে আসে যোগাযোগমন্ত্রীর কথায়। তিনি বলেন, 'আমি নতুন এসেই তোপের মুখে পড়লাম'। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে আগ থেকে জানানো হলে সবার সঙ্গে আলোচনা করতে পারতাম। দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানানো হয়। মন্ত্রী বাস মালিকদের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান মূল্যে ভাড়া নেওয়ার আহ্বান জানান। বৈঠকে আওয়ামী লীগ সমর্থক পরিবহন নেতা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুল্লাহ রাতের আঁধারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন।
সোহাগ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফারুক তালুকদার সোহেল বলেন, ৫০ লাখ টাকা দামের বাসের দাম গত ছয় মাসে ৭০ লাখ টাকা হয়েছে। সব কিছুরই দাম বেড়েছে। তাই শুধু তেলের মূল্য বৃদ্ধি নয়, মোটরযান অধ্যাদেশ-১৯৮৩ অনুযায়ী সবকিছু হিসাব করেই ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে।
কঞ্জুমার অ্যাসোসিয়েশনের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক কাজী ফারুক বলেন, তেলের দাম বেড়েছে। আবার ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে কথা হচ্ছে। সব জায়গায়ই সাধারণ জনগণ উপেক্ষিত। তিনি জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভা শেষে বিআরটিসির চেয়ারম্যান আয়ুবুর রহমান খান জানিয়েছেন, আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিআরটিসির অফিসে কস্টিং কমিটির প্রাথমিক মিটিং হবে। বিকেলে সড়ক ভবনে আলোচনা শেষে ভাড়ার সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এদিকে আবারও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থার সহ-সভাপতি শাহাব উদ্দিন মিলন। তিনি বলেন, এর আগে আমরা লঞ্চের ভাড়া বাড়াইনি। এখন আর ভাড়া না বাড়িয়ে উপায় নেই।
বিভিন্ন সংগঠনের ক্ষোভ : জ্বালানি তেলের আকস্মিক মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংগঠন। কয়েকটি স্থানে বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ মিছিলও বের করে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, পদ্মা সেতু পিপিপি ভিত্তিতে নেওয়া প্রকল্পে লাখ লাখ কোটি টাকা দুর্নীতি, অপচয় হচ্ছে। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। মিছিল শেষে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ নেতা মাহবুবুর রহমান, অসিত বরণ বিশ্বাস প্রমুখ।
সিলেট ব্যুরো জানায়, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সিলেট শহরেও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাসদ।
বাড়ছে জ্বালানির দাম, বাড়ছে জনদুর্ভোগ :গত বৃহস্পতিবার রাতে আকস্মিকভাবে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে চলতি বছরের ৫ মে, ১৮ সেপ্টেম্বর এবং ১০ নভেম্বর তিন দফা ভাড়া বাড়ানো হয়। গত সাত মাসে এবার চতুর্থবারের মতো জ্বালানির দাম বাড়ল। চলতি মাসেই বেড়েছে বিদ্যুতের দাম। এ ছাড়া আছে লাগামহীন বাড়ি ভাড়া, বাজারে সকাল-বিকেল নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি। ফলে স্বল্প ও মধ্যআয়ের মানুষকে আগের চেয়ে বেশি আয় করেও মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষের অবস্থা আরও শোচনীয়।
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক অর্থনীতিবিদ জায়েদ বখত বলেন, মাস তিনেক আগে জ্বালানির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বর্তমানে পুরোপুরি স্থিতিশীল। তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হচ্ছে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জ্বালানি তেল আমদানির পরিমাণ আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বাড়তি তেল আমদানি করতে গিয়ে বাজেট ঘাটতি বাড়ছে। এ ছাড়া বৈদেশিক সাহায্য, রেমিট্যান্স এবং বিদেশি বিনিয়োগ থেকেও আশানুরূপ বৈদেশিক মুদ্রা আসছে না। ফলে একদিকে বেশি আমদানি, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমে যাওয়ায় ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নও
ঘটছে অনেক বেশি। ১১ দশমিক ৫৮ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতির চাপ পুরো অর্থনীতিকে সংকটজনক করে তুলেছে। অর্থনীতির এই সংকট মোকাবেলার জন্যই বারবার দাম বাড়ছে। এর পাশাপাশি দাতা সংস্থার চাপও আছে। আইএমএফের কাছ থেকে এক বিলিয়ন ডলারের যে ঋণ সাহায্য পাওয়ার কথা, তার জন্যও ওই সংস্থার পক্ষ থেকে জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের চাপ আছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, জ্বালানির দাম যেটা বেড়েছে সেটা শতাংশে খুব বেশি নয়। কিন্তু রেওয়াজ হচ্ছে, জ্বালানির দাম বাড়লে তার সঙ্গে গণপরিবহনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক কিছুর দাম বাড়বে। দাম বাড়লে জনগণের কষ্ট হবে। অর্থনীতির অবস্থা ভালো হলে জনগণের কষ্ট বাড়িয়ে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করার কথা নয়।
একটি সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা ড.মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের উপায় ছিল না। কারণ এর আগে দুই দফায় দাম বাড়িয়ে যে আয় হয়েছে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকা অবমূল্যায়নের কারণে তার পুরোটাই চলে গেছে।
সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তৈরি পোশাক মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে, গণপরিবহনের খরচ বাড়বে, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে, শিল্পে উৎপাদন খরচ বাড়বে। সরকারের সামনে যেমন ভর্তুকি কমাতে দাম বাড়ানো ছাড়া পথ নেই, আমাদের সামনেও তেমনি সংকট। ইউরোপে অর্থনৈতিক মন্দার কারণে পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়লে আমাদের শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজার ধরে রাখা কষ্ট হবে।
বাস ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আজ : বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর গতকাল শুক্রবার পরিবহনের ভাড়া বাড়েনি। শুক্রবার সরেজমিন ঘুরে কোনো বাসেই বাড়তি ভাড়া নিতে দেখা যায়নি। রাজধানীতে চলাচলরত অধিকাংশ বাস সিএনজিচালিত। অন্যদিকে বেশিরভাগ দূরপাল্লার বাস চলে ডিজেলে। ফলে একবার জ্বালানি তেল এবং সিএনজির মূল্য পৃথকভাবে বাড়ানো হলে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সংকটে পড়তে হয় যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে। এই সংকট আরও তীব্র হয় আগে থেকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি অবহিত না হওয়ার কারণে। গতকাল শুক্রবার সড়ক ভবনে পরিবহন মালিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে সেই সংকটের কথাই উঠে আসে যোগাযোগমন্ত্রীর কথায়। তিনি বলেন, 'আমি নতুন এসেই তোপের মুখে পড়লাম'। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে আগ থেকে জানানো হলে সবার সঙ্গে আলোচনা করতে পারতাম। দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানানো হয়। মন্ত্রী বাস মালিকদের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান মূল্যে ভাড়া নেওয়ার আহ্বান জানান। বৈঠকে আওয়ামী লীগ সমর্থক পরিবহন নেতা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুল্লাহ রাতের আঁধারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন।
সোহাগ পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ফারুক তালুকদার সোহেল বলেন, ৫০ লাখ টাকা দামের বাসের দাম গত ছয় মাসে ৭০ লাখ টাকা হয়েছে। সব কিছুরই দাম বেড়েছে। তাই শুধু তেলের মূল্য বৃদ্ধি নয়, মোটরযান অধ্যাদেশ-১৯৮৩ অনুযায়ী সবকিছু হিসাব করেই ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে।
কঞ্জুমার অ্যাসোসিয়েশনের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক কাজী ফারুক বলেন, তেলের দাম বেড়েছে। আবার ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে কথা হচ্ছে। সব জায়গায়ই সাধারণ জনগণ উপেক্ষিত। তিনি জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে সব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভা শেষে বিআরটিসির চেয়ারম্যান আয়ুবুর রহমান খান জানিয়েছেন, আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিআরটিসির অফিসে কস্টিং কমিটির প্রাথমিক মিটিং হবে। বিকেলে সড়ক ভবনে আলোচনা শেষে ভাড়ার সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এদিকে আবারও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থার সহ-সভাপতি শাহাব উদ্দিন মিলন। তিনি বলেন, এর আগে আমরা লঞ্চের ভাড়া বাড়াইনি। এখন আর ভাড়া না বাড়িয়ে উপায় নেই।
বিভিন্ন সংগঠনের ক্ষোভ : জ্বালানি তেলের আকস্মিক মূল্য বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংগঠন। কয়েকটি স্থানে বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ মিছিলও বের করে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, পদ্মা সেতু পিপিপি ভিত্তিতে নেওয়া প্রকল্পে লাখ লাখ কোটি টাকা দুর্নীতি, অপচয় হচ্ছে। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)। মিছিল শেষে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ নেতা মাহবুবুর রহমান, অসিত বরণ বিশ্বাস প্রমুখ।
সিলেট ব্যুরো জানায়, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সিলেট শহরেও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাসদ।
Friday, December 30, 2011
জেএসসি পরীক্ষায় শীর্ষ ১০ বিদ্যালইয়ের মাঝে নওগাঁ কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়
জেএসসি পরীক্ষায় এবার নওগাঁ জেলা শীর্ষ ১০-এর মধ্যে নওগাঁ কেডি সরকারি উচ্চ
বিদ্যালয় আবারও প্রথম হয়েছে। ওই স্কুলের ১৬৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬৫ জনই
পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৪ জন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নওগাঁ সরকারি
বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের ২০১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৯৯ জন পাস
করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৪ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে নওগাঁ জিলা স্কুল।
স্কুলের ১২৩ জনের এর মধ্যে ১২২ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ জন। এছাড়া
মান্দা দক্ষিণ মৈনম উচ্চ বিদ্যালয় চতুর্থ হয়েছে। পঞ্চম হয়েছে গোয়ালমান্দা
উচ্চ বিদ্যালয়। ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে ধামইরহাট চকময়রম উচ্চ বিদ্যালয়।
নওগাঁ সীমান্ত পাবলিক হাইস্কুল সপ্তম স্থানে রয়েছে। অষ্টম হয়েছে নজিপুর
আলহেলাল ইসলামী একাডেমী। মান্দা নূরুল্লাহবাদ এম আই উচ্চ বিদ্যালয় নবম
স্থানে রয়েছে। দশম হয়েছে সাপাহার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়।
সেরা বিশে নওগাঁ সরকারি
কেডি উচ্চ বিদ্যালয়
জেএসসি পরীক্ষায় নওগাঁ কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় দেশের সেরা বিশে ১৬তম স্থান অধিকার করেছে এবং জেলার মধ্যে প্রথম হয়েছে। গত বছরও জেলার মধ্যে প্রথম হয়েছিল।
এবারের পরীক্ষায় ওই বিদ্যালয় থেকে ১৬৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাসের হার শতভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৪ জন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক মির্জা বলেন, শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি ও অভিভাবক সমাবেশ, বিশেষ ক্লাস গ্রহণসহ সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।
সেরা বিশে নওগাঁ সরকারি
কেডি উচ্চ বিদ্যালয়
জেএসসি পরীক্ষায় নওগাঁ কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় দেশের সেরা বিশে ১৬তম স্থান অধিকার করেছে এবং জেলার মধ্যে প্রথম হয়েছে। গত বছরও জেলার মধ্যে প্রথম হয়েছিল।
এবারের পরীক্ষায় ওই বিদ্যালয় থেকে ১৬৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পাসের হার শতভাগ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৪ জন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিয়াউল হক মির্জা বলেন, শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নিয়মিত ক্লাস, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি ও অভিভাবক সমাবেশ, বিশেষ ক্লাস গ্রহণসহ সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।
উৎসবে মেতেছে চোরেরা; কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাটে পবিসের ট্রান্সফরমার চুরি
সেচনির্ভর বোরো আবাদ মৌসুম শুরু হতে না হতেই ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক
পড়েছে। গত এক সপ্তাহে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাড়ে ৪
লাখ টাকা মূল্যের আটটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এ নিয়ে গত ৬ মাসে সমিতির
২৬ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের ৫৪টি ট্রান্সফরমার চুরি গেছে।
কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রধান কার্যালয় সূত্র জানায়, সোমবার রাতে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ সরকারপাড়া এলাকায় ১০ কেভিএ তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এর আগের দিন রাতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী শিবরাম এলাকায় ২৫ কেভিএ একটি এবং ১০ কেভিএ দুটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এর তিন দিন আগে পঞ্চগ্রাম এলাকায় চুরি যায় ৫ কেভিএ দুটি ট্রান্সফরমার।
সূত্র আরও জানায়, ট্রান্সফরমার চুরি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে গত ৬ মাসে সমিতির ৫৪টি ট্রান্সফরমার চুরি গেছে। যার মূল্য ২৬ লাখ টাকা। চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপিত করতে এই বিপুল পরিমাণ টাকা সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষক ও গ্রাহকদের পকেট থেকে দিতে হচ্ছে। কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পবিসের জেনারেল ম্যানেজার মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, প্রতিটি চুরির ঘটনা তদন্ত করে দেখার পর সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়াও গ্রাহকদের নিজ নিজ এলাকার ট্রান্সফরমার পাহাড়া দিয়ে রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, বোরো আবাদে সেচ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ লাইনের ট্রান্সফরমার চুরি রোধে নিজ নিজ এলাকার গ্রাহক, আনসার-ভিডিপি সদস্য, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য ও চৌকিদার-দফাদারদের দিয়ে পাহাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়াও চোরের দল ধরতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রধান কার্যালয় সূত্র জানায়, সোমবার রাতে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ সরকারপাড়া এলাকায় ১০ কেভিএ তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এর আগের দিন রাতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী শিবরাম এলাকায় ২৫ কেভিএ একটি এবং ১০ কেভিএ দুটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এর তিন দিন আগে পঞ্চগ্রাম এলাকায় চুরি যায় ৫ কেভিএ দুটি ট্রান্সফরমার।
সূত্র আরও জানায়, ট্রান্সফরমার চুরি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে গত ৬ মাসে সমিতির ৫৪টি ট্রান্সফরমার চুরি গেছে। যার মূল্য ২৬ লাখ টাকা। চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপিত করতে এই বিপুল পরিমাণ টাকা সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষক ও গ্রাহকদের পকেট থেকে দিতে হচ্ছে। কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পবিসের জেনারেল ম্যানেজার মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, প্রতিটি চুরির ঘটনা তদন্ত করে দেখার পর সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়াও গ্রাহকদের নিজ নিজ এলাকার ট্রান্সফরমার পাহাড়া দিয়ে রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, বোরো আবাদে সেচ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ লাইনের ট্রান্সফরমার চুরি রোধে নিজ নিজ এলাকার গ্রাহক, আনসার-ভিডিপি সদস্য, কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য ও চৌকিদার-দফাদারদের দিয়ে পাহাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যক্রম চলছে। এ ছাড়াও চোরের দল ধরতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
যাত্রাপালার নামে অশ্লীল নৃত্য; তিনজনের কারাদন্ড
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আয়োজিত মেলায় যাত্রাপালার নামে অশ্লীল নৃত্য
পরিবেশনের অভিযোগে তিন শিল্পীকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ
আদালত। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রে সুব্রত পাল
মঙ্গলবার রাতে এ রায় দেন। কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছে_ মানিকগঞ্জ জেলার
দৌলতপুর উপজেলার লাকী, মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নিপা ও চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার শারমিন।
বেহাল সড়ক: সংস্কারের দাবি নীলফামারীতে প্রত্যাহার, যশোরে ধর্মঘট চলছে
সড়ক সংস্কারের দাবিতে নীলফামারীতে ডাকা ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল
কাদেরের আশ্বাসের পর জেলা মোটর মালিক ও শ্রমিক সংগঠন ধর্মঘট প্রত্যাহারের
সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে।
এ দিকে সড়ক সংস্কারের দাবিতে যশোর-নড়াইল সড়কে গতকাল চতুর্থ দিনের মতো ধর্মঘট হয়েছে। সড়কটি সংস্কারের দাবিতে গতকাল যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে যোগাযোগমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে মহাজোট সরকারের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।
নীলফামারী: নীলফামারী-ডোমারের চলাচল অনুপযোগী সড়ক সংস্কারের দাবিতে গত মঙ্গলবার নীলফামারীতে ২২ কিলোমিটারজুড়ে মানববন্ধন করা হয়। দাবি আদায়ে ওই দিন জেলা বাস, মিনিবাস, ট্রাক, ট্যাংক লরি, মাইক্রোবাস, পিকআপ ভ্যান মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠন গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়।
ধর্মঘটের কারণে গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
জেলা সদরের চওড়া গ্রামের নূর ইসলাম (৫০) পরিবহন ধর্মঘটের কারণে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ রিকশা ভ্যানে এসেছেন। প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডোমার-নীলফামারীর রাস্তাটা এত খারাপ যে প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই রাস্তায় চলাচল করা যাচ্ছে না। ওই রাস্তা করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা কেন, ৪৮ দিনও কষ্ট করতে রাজি আছি। তবু যেন রাস্তাটা ঠিক হয়।’
গতকাল রাতে জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান আলী চৌধুরী বলেন, ‘যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মুঠোফোনে আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন, সড়কটি উন্নয়নে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু করা হবে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর ভাইও আমাকে ফোন আশ্বস্ত করে বলেন, সংস্কারকাজ শুরু করতে না পারলে তিনিও আমাদের সঙ্গে আন্দোলন করবেন।’
শাহাজাহান বলেন, ‘আমরা সব পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন যৌথভাবে কথা বলে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।’
এ ব্যাপারে নীলফামারী-২ আসনের সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর প্রথম বলেন, ‘নীলফামারী-ডোমার সড়ক সংস্কারে আমি যোগাযোগমন্ত্রী এবং সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সকালে কথা বলেছি। এ ব্যাপারে আগামী ৩ জানুয়ারি এডিবির সঙ্গে আলোচনা হবে। আমি বাসমালিক ও শ্রমিক সংগঠনকে আশ্বস্ত করেছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাস্তার কাজ শুরু করা হবে।’
যশোর: গতকাল ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, যশোর-নড়াইল ও যশোর-খুলনা সড়ক দুটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সওজের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে সড়ক দুটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনগণ, পরিবহনমালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো সড়ক সংস্কারের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন করছে। বর্তমানে যশোর-নড়াইল সড়কে ধর্মঘট চলছে। কিছুদিনের (৬ জানুয়ারি) মধ্যে যশোর-খুলনা সড়কেও ধর্মঘট শুরু হবে। বারবার সওজ কর্মকর্তা, সবশেষ যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব যশোরে এসে সংস্কারের আশ্বাস দেওয়ার পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
যোগাযোগ করলে যশোর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দার বলেন, যশোর-নড়াইল সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করতে সেল-পিএইএল-জেভি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গতকাল তৃতীয়বারের মতো চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সেল-পিএইএল-জেভির অংশীদার যশোর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার। এ ব্যাপারে গতকাল বিকেলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ দিকে সড়ক সংস্কারের দাবিতে যশোর-নড়াইল সড়কে গতকাল চতুর্থ দিনের মতো ধর্মঘট হয়েছে। সড়কটি সংস্কারের দাবিতে গতকাল যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে যোগাযোগমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে মহাজোট সরকারের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।
নীলফামারী: নীলফামারী-ডোমারের চলাচল অনুপযোগী সড়ক সংস্কারের দাবিতে গত মঙ্গলবার নীলফামারীতে ২২ কিলোমিটারজুড়ে মানববন্ধন করা হয়। দাবি আদায়ে ওই দিন জেলা বাস, মিনিবাস, ট্রাক, ট্যাংক লরি, মাইক্রোবাস, পিকআপ ভ্যান মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠন গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়।
ধর্মঘটের কারণে গতকাল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
জেলা সদরের চওড়া গ্রামের নূর ইসলাম (৫০) পরিবহন ধর্মঘটের কারণে প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ রিকশা ভ্যানে এসেছেন। প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডোমার-নীলফামারীর রাস্তাটা এত খারাপ যে প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই রাস্তায় চলাচল করা যাচ্ছে না। ওই রাস্তা করার জন্য ৪৮ ঘণ্টা কেন, ৪৮ দিনও কষ্ট করতে রাজি আছি। তবু যেন রাস্তাটা ঠিক হয়।’
গতকাল রাতে জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান আলী চৌধুরী বলেন, ‘যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মুঠোফোনে আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন, সড়কটি উন্নয়নে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু করা হবে। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর ভাইও আমাকে ফোন আশ্বস্ত করে বলেন, সংস্কারকাজ শুরু করতে না পারলে তিনিও আমাদের সঙ্গে আন্দোলন করবেন।’
শাহাজাহান বলেন, ‘আমরা সব পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন যৌথভাবে কথা বলে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।’
এ ব্যাপারে নীলফামারী-২ আসনের সাংসদ আসাদুজ্জামান নূর প্রথম বলেন, ‘নীলফামারী-ডোমার সড়ক সংস্কারে আমি যোগাযোগমন্ত্রী এবং সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সকালে কথা বলেছি। এ ব্যাপারে আগামী ৩ জানুয়ারি এডিবির সঙ্গে আলোচনা হবে। আমি বাসমালিক ও শ্রমিক সংগঠনকে আশ্বস্ত করেছি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাস্তার কাজ শুরু করা হবে।’
যশোর: গতকাল ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ইকবাল কবির স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, যশোর-নড়াইল ও যশোর-খুলনা সড়ক দুটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সওজের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে সড়ক দুটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনগণ, পরিবহনমালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো সড়ক সংস্কারের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন করছে। বর্তমানে যশোর-নড়াইল সড়কে ধর্মঘট চলছে। কিছুদিনের (৬ জানুয়ারি) মধ্যে যশোর-খুলনা সড়কেও ধর্মঘট শুরু হবে। বারবার সওজ কর্মকর্তা, সবশেষ যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব যশোরে এসে সংস্কারের আশ্বাস দেওয়ার পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
যোগাযোগ করলে যশোর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দার বলেন, যশোর-নড়াইল সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করতে সেল-পিএইএল-জেভি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গতকাল তৃতীয়বারের মতো চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সেল-পিএইএল-জেভির অংশীদার যশোর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার। এ ব্যাপারে গতকাল বিকেলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
Thursday, December 29, 2011
শিবগঞ্জে ধর্ষণের শিকার তরুণী
শিবগঞ্জ উপজেলার দৌলতবাড়ীতে মানসিক প্রতিবন্ধী তরুণী সোমবার রাতে
গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার রাতে ওই তরুণী বাদী হয়ে ৪
যুবককে আসামি করে শিবগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে সত্রাজিতপুর ইউপির পারঘোড়াপাখিয়া গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী ওই তরুণী বাসে করে শাহবাজপুর ইউপির শিয়ালমারা গ্রামে বোনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কানসাটে শাহবাজপুর ইউপির দৌলতবাড়ী গ্রামের রূপচাঁদ, তরিকুল, সানাউল্লাহ ও জাম্মু ওরফে পলাশ ওই তরুণীকে বোনের বাড়িতে পেঁৗছে দেওয়ার কথা বলে। এরপর তারা বাস থেকে সোনামসজিদে নামে। রূপচাঁদের বাড়িতে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। শিবগঞ্জ থানার ওসি মির্জা আঃ সালাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে সত্রাজিতপুর ইউপির পারঘোড়াপাখিয়া গ্রামের মানসিক প্রতিবন্ধী ওই তরুণী বাসে করে শাহবাজপুর ইউপির শিয়ালমারা গ্রামে বোনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কানসাটে শাহবাজপুর ইউপির দৌলতবাড়ী গ্রামের রূপচাঁদ, তরিকুল, সানাউল্লাহ ও জাম্মু ওরফে পলাশ ওই তরুণীকে বোনের বাড়িতে পেঁৗছে দেওয়ার কথা বলে। এরপর তারা বাস থেকে সোনামসজিদে নামে। রূপচাঁদের বাড়িতে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। শিবগঞ্জ থানার ওসি মির্জা আঃ সালাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বেহাল দশা চাঁপাপুর-চৌমুহনী ও নশরতপুর-কড়ই সড়কের
দেখার কেউ নেই। সড়কের পাথর-পিচ উথে যাচ্ছে, প্রায় সবখানেই সৃষ্টি হচ্ছে বড়বড় গর্ত। বগুড়ার আদমদীঘির চাঁপাপুর-চৌমুহনী ও নশরতপুর-কড়ই সড়কের কার্পেটিং উঠে
গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কগুলো দীর্ঘদিনেও সংস্কার না
করায় যানবাহনসহ সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আদমদীঘির চাঁপাপুর থেকে চৌমুহনী মহাসড়ক পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ক দিয়ে বগুড়া জেলা শহরসহ সারাদেশের সঙ্গে চাঁপাপুর কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের এবং পার্শ্ববর্তী নন্দীগ্রাম ও রানীনগর উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র পথ। এই পাকা সড়কে ৩ বছর আগে কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় শত শত গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও কোনো সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করছে না সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এ ছাড়া নশরতপুর থেকে কড়ই পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার পাকা সড়কের অধিকাংশ স্থানেই পাকা কার্পেটিং উঠে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটিতে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব রাস্তার গর্তে বাস-ট্রাক, ভটভটির যন্ত্রাংশ ভেঙে পড়ে থাকছে।
মনে হয় এলাকার দায়িত্তশীলরা শীতনিদ্রায় গেছে। আদমদীঘি উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মোর্শেদ জানান, সড়ক দুটি পুনঃসংস্কারের কাজের জন্য বরাদ্দ চেয়ে কয়েক দফায় কর্তৃপক্ষের কাছে লেখা হয়েছে।
আদমদীঘির চাঁপাপুর থেকে চৌমুহনী মহাসড়ক পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়ক দিয়ে বগুড়া জেলা শহরসহ সারাদেশের সঙ্গে চাঁপাপুর কুন্দগ্রাম ইউনিয়নের এবং পার্শ্ববর্তী নন্দীগ্রাম ও রানীনগর উপজেলার হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র পথ। এই পাকা সড়কে ৩ বছর আগে কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় শত শত গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও কোনো সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করছে না সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এ ছাড়া নশরতপুর থেকে কড়ই পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার পাকা সড়কের অধিকাংশ স্থানেই পাকা কার্পেটিং উঠে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটিতে প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব রাস্তার গর্তে বাস-ট্রাক, ভটভটির যন্ত্রাংশ ভেঙে পড়ে থাকছে।
মনে হয় এলাকার দায়িত্তশীলরা শীতনিদ্রায় গেছে। আদমদীঘি উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মোর্শেদ জানান, সড়ক দুটি পুনঃসংস্কারের কাজের জন্য বরাদ্দ চেয়ে কয়েক দফায় কর্তৃপক্ষের কাছে লেখা হয়েছে।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে শীর্ষে বগুড়া সদর
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বগুড়ায় ১২টি উপজেলা থেকে ৪৫ হাজার ৫২২
পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ১১৪ জন। জেলার মধ্যে জিপিএ-৫ ও
পরীক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বগুড়া সদর উপজেলায়। সদর উপজেলায় ৭ হাজার
৫৭৮ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৭ হাজার ৫৩৭ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৪৫ ভাগ।
জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯০৫ জন। পাসের হার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শেরপুর
উপজেলায়। ওই উপজেলায় ৪ হাজার ৬২৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৪
হাজার ৬২৪ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫৩ জন।
এ ছাড়া গাবতলী উপজেলায় ৪ হাজার ২৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৪ হাজার ৮ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৫৭ ভাগ। নন্দীগ্রাম উপজেলায় ২ হাজার ২৯৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ২ হাজার ২৮৩ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৫২ ভাগ। দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ২ হাজার ৪৪৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ২ হাজার ৩৮৪ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৩৮ ভাগ। শিবগঞ্জ উপজেলায় ৪ হাজার ৭৪৯ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৪ হাজার ৭৬৩ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৭২ ভাগ। সারিয়াকান্দি উপজেলায় ৩ হাজার ২৩৩ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৩ হাজার ২২১ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬২ ভাগ। সোনাতলা উপজেলায় ৩ হাজার ২৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৩ হাজার ১৩ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৫০ ভাগ। শাজাহানপুর উপজেলায় ৩ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৩ হাজার ৪৮৫ জন। পাসের হার ৯৬ দশমিক ২৪ ভাগ। কাহালু উপজেলায় ২ হাজার ৬৭২ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ২ হাজার ২৪৫ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯৮ ভাগ। আদমদীঘি উপজেলায় ২ হাজার ৯৯১ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ২ হাজার ৮৮০ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৯২ ভাগ।
এ ছাড়া গাবতলী উপজেলায় ৪ হাজার ২৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৪ হাজার ৮ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৫৭ ভাগ। নন্দীগ্রাম উপজেলায় ২ হাজার ২৯৪ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ২ হাজার ২৮৩ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৫২ ভাগ। দুপচাঁচিয়া উপজেলায় ২ হাজার ৪৪৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ২ হাজার ৩৮৪ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৩৮ ভাগ। শিবগঞ্জ উপজেলায় ৪ হাজার ৭৪৯ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৪ হাজার ৭৬৩ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৭২ ভাগ। সারিয়াকান্দি উপজেলায় ৩ হাজার ২৩৩ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৩ হাজার ২২১ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬২ ভাগ। সোনাতলা উপজেলায় ৩ হাজার ২৮ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৩ হাজার ১৩ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৫০ ভাগ। শাজাহানপুর উপজেলায় ৩ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৩ হাজার ৪৮৫ জন। পাসের হার ৯৬ দশমিক ২৪ ভাগ। কাহালু উপজেলায় ২ হাজার ৬৭২ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ২ হাজার ২৪৫ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯৮ ভাগ। আদমদীঘি উপজেলায় ২ হাজার ৯৯১ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ২ হাজার ৮৮০ জন। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৯২ ভাগ।
পানিশূন্য ঈশ্বরদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ
ঈশ্বরদীর পাকশীতে পদ্মা নদীজুড়ে বিস্তীর্ণ চর ও পানিশূন্য অবস্থার সৃষ্টি
হয়েছে। পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কবিবুর রহমান জানান,
পানির স্তর ৩০-৪০ ফুট নিচে নেমে গেছে, ফলে পদ্মা নদী এখন মরা খালে পরিণত
হয়েছে।
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় জলবায়ু পরিবর্তন; কিন্তু পদ্মা নদীবেষ্টিত ৬টি জেলার অন্তত ২ কোটি মানুষ ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প, পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প, পানাসি প্রকল্প, বরেন্দ্র প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের হাজার হাজার একর জমিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও পাম্প ব্যবহার করেও সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঈশ্বরদীর পাকশী পদ্মা নদীর ওপর প্রতিষ্ঠিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ১৫টি পিলারের মধ্যে ১১টি পিলারই এখন শুকনো চরে দাঁড়িয়ে আছে। যে ৪টি পিলার পানিতে রয়েছে তার আশপাশে মানুষ চাষাবাদ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ফারাক্কার প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের ৫৪টি নদী শুকিয়ে গেছে, শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ছে।
পাবনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জামানুর রহমান জানান, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর এত নিচে নেমে গেছে যে, এভাবে চললে ১০ বছর পর এ অঞ্চলে পানি পাওয়া কঠিন হবে। তা ছাড়া বৃষ্টিপাত না থাকায় বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতাও দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রকৌশলী কবিবুর রহমান আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর নদীগুলোর ভূগর্ভস্থ উচ্চতা বেড়েছে এবং পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। পানিপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক জরুরি বলে তিনি মনে করেন। ভেড়ামারা পাম্প স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন বলেন, পানি না পাওয়ায় ইতিমধ্যে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ পাম্প বন্ধ হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে।
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় জলবায়ু পরিবর্তন; কিন্তু পদ্মা নদীবেষ্টিত ৬টি জেলার অন্তত ২ কোটি মানুষ ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প, পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প, পানাসি প্রকল্প, বরেন্দ্র প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের হাজার হাজার একর জমিতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও পাম্প ব্যবহার করেও সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ঈশ্বরদীর পাকশী পদ্মা নদীর ওপর প্রতিষ্ঠিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ১৫টি পিলারের মধ্যে ১১টি পিলারই এখন শুকনো চরে দাঁড়িয়ে আছে। যে ৪টি পিলার পানিতে রয়েছে তার আশপাশে মানুষ চাষাবাদ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ফারাক্কার প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের ৫৪টি নদী শুকিয়ে গেছে, শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ছে।
পাবনা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জামানুর রহমান জানান, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর এত নিচে নেমে গেছে যে, এভাবে চললে ১০ বছর পর এ অঞ্চলে পানি পাওয়া কঠিন হবে। তা ছাড়া বৃষ্টিপাত না থাকায় বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্যতাও দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রকৌশলী কবিবুর রহমান আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর নদীগুলোর ভূগর্ভস্থ উচ্চতা বেড়েছে এবং পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। পানিপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক জরুরি বলে তিনি মনে করেন। ভেড়ামারা পাম্প স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন বলেন, পানি না পাওয়ায় ইতিমধ্যে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ পাম্প বন্ধ হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে।
অস্থির রাজশাহীর ওষুধের বাজার
রাজশাহীতে ওষুধের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত কয়েক মাসে লাগামহীন দাম
বেড়েছে অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের। কিন্তু দামের লাগাম টেনে ধরার কোনো উদ্যোগ
চোখে পড়ছে না। হঠাৎ ওষুধের মূল্য বেড়ে যাওয়া এবং স্থানভেদে দামের ব্যাপক
তারতম্যের কারণে ওষুধ কিনতে ভোক্তারা প্রতিনিয়ত নাজেহাল হচ্ছেন। ওধুষ
কোম্পানির কর্মকর্তাদের দাবি, বিশ্ববাজারে ওষুধ তৈরির কাঁচামালের দাম বেড়ে
যাওয়ায় ওষুধের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টার
রাজশাহীর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেন বলেন, 'বিশ্ববাজারে কাঁচামালের
দাম বেড়ে যাওয়ার পরও আমরা ওষুধের দাম বাড়াইনি। যেটুকু বেড়েছে তা
স্বাভাবিক।'
২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে ওষুধের দাম বাড়া শুরু হয়েছে। কোনো কোনো ওষুধের দাম ১০ পয়সা থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন। ফার্মেসিগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন ওষুধের দাম কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্যাকেটের গায়ে মূল্য লেখা থাকলেও আলাদা স্টিকার লাগিয়ে কোম্পানি দাম বাড়িয়েছে বলে জানান লক্ষ্মীপুর এলাকার এক ফার্মাসিস্ট। রাজশাহীর কয়েকটি এলাকা ঘুরে ওষুধের দামের তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। ওষুধ কোম্পানি স্কয়ারের ট্যাবলেট প্রতি প্যাকেট লক্ষ্মীপুর এলাকায় বিক্রি হচ্ছে ৩৯০ টাকায়। আবার সাহেববাজার বড় মসজিদের কাছে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে বিভিন্ন কোম্পানির ইনহেলারের। শীতের অতি প্রয়োজনীয় ওষুধগুলোর দাম বেড়েছে হঠাৎ। সর্দিকাশি থেকে মুক্তি পাওয়ার অতি প্রয়োজনীয় নজল ড্রপের দাম কয়েক দিন আগেও ছিল ৭ থেকে ৮ টাকা। এখন তা ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। হৃদরোগের সব ওষুধের দাম বেড়েছে। গ্যাসের ওষুধ সারজেল প্রতি পাতা ৩৫ টাকা বিক্রি হতো, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ টাকা। সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির (এসএমসি) উৎপাদিত জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীগুলো নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফেমিকন প্যাকেটের গায়ে ২৫ টাকা লেখা থাকলেও তা পাইকারি ৪০ টাকায় এবং খুচরা বাজারে তা ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নোরেট-২৮ প্যাকেটের গায়ে ২৩.৫২ টাকা দাম লেখা থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকায়। নরডেট-২৮ প্যাকেটের গায়ে ৩৮.৮৫ টাকা লেখা থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়।
সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির সেলস ম্যানেজার মোঃ নুরুন নবী জানান, তারা খুচরা মূল্য লেখা অনুযায়ী বিক্রির জন্য ফার্মেসি মালিকদের পরামর্শ দেন। তবে অনেকে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদা অনুযায়ী দামের তারতম্য করে থাকেন। এসএমসির পক্ষ থেকে নরডেট-২৮ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও অনেক ফার্মেসিতে তা আছে। বাজারে সরবরাহ নেই এই অজুহাতে অনেকে বেশি দাম আদায় করছেন। রাজশাহী ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মির্জা মোঃ আনোয়ারুল বাসেদ জানান, ওষুধের দাম বেড়েছে সত্য। বিশ্ববাজারে কাঁচামাল এবং ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে কোম্পানিগুলো ওষুধের দাম বাড়িয়েছে। তিনি বাজার ঘুরে জানতে পেরেছেন সব ধরনের ওষুধের দাম বেড়েছে। তবে কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর কারণে তাদের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কিছু করার নেই বলে তিনি জানান।
২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে ওষুধের দাম বাড়া শুরু হয়েছে। কোনো কোনো ওষুধের দাম ১০ পয়সা থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন। ফার্মেসিগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন ওষুধের দাম কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্যাকেটের গায়ে মূল্য লেখা থাকলেও আলাদা স্টিকার লাগিয়ে কোম্পানি দাম বাড়িয়েছে বলে জানান লক্ষ্মীপুর এলাকার এক ফার্মাসিস্ট। রাজশাহীর কয়েকটি এলাকা ঘুরে ওষুধের দামের তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। ওষুধ কোম্পানি স্কয়ারের ট্যাবলেট প্রতি প্যাকেট লক্ষ্মীপুর এলাকায় বিক্রি হচ্ছে ৩৯০ টাকায়। আবার সাহেববাজার বড় মসজিদের কাছে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে বিভিন্ন কোম্পানির ইনহেলারের। শীতের অতি প্রয়োজনীয় ওষুধগুলোর দাম বেড়েছে হঠাৎ। সর্দিকাশি থেকে মুক্তি পাওয়ার অতি প্রয়োজনীয় নজল ড্রপের দাম কয়েক দিন আগেও ছিল ৭ থেকে ৮ টাকা। এখন তা ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। হৃদরোগের সব ওষুধের দাম বেড়েছে। গ্যাসের ওষুধ সারজেল প্রতি পাতা ৩৫ টাকা বিক্রি হতো, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ টাকা। সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির (এসএমসি) উৎপাদিত জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীগুলো নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফেমিকন প্যাকেটের গায়ে ২৫ টাকা লেখা থাকলেও তা পাইকারি ৪০ টাকায় এবং খুচরা বাজারে তা ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নোরেট-২৮ প্যাকেটের গায়ে ২৩.৫২ টাকা দাম লেখা থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকায়। নরডেট-২৮ প্যাকেটের গায়ে ৩৮.৮৫ টাকা লেখা থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়।
সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির সেলস ম্যানেজার মোঃ নুরুন নবী জানান, তারা খুচরা মূল্য লেখা অনুযায়ী বিক্রির জন্য ফার্মেসি মালিকদের পরামর্শ দেন। তবে অনেকে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদা অনুযায়ী দামের তারতম্য করে থাকেন। এসএমসির পক্ষ থেকে নরডেট-২৮ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও অনেক ফার্মেসিতে তা আছে। বাজারে সরবরাহ নেই এই অজুহাতে অনেকে বেশি দাম আদায় করছেন। রাজশাহী ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মির্জা মোঃ আনোয়ারুল বাসেদ জানান, ওষুধের দাম বেড়েছে সত্য। বিশ্ববাজারে কাঁচামাল এবং ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে কোম্পানিগুলো ওষুধের দাম বাড়িয়েছে। তিনি বাজার ঘুরে জানতে পেরেছেন সব ধরনের ওষুধের দাম বেড়েছে। তবে কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর কারণে তাদের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কিছু করার নেই বলে তিনি জানান।
Wednesday, December 28, 2011
Tuesday, December 27, 2011
বগুড়া হচ্ছে সিটি কর্পোরেশন !
বগুড়া সিটি কর্পোরেশন- নতুন বছরের শুরুতে এমন ঘোষণা আসছে। আওয়ামী লীগের একটা নির্ভরযোগ্য সূত্র এমনটাই জানান। বেগম খালেদা জিয়াকে টেক্কা দিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই
বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন। সেইসঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
বিশ্ববিদ্যালয়, ফুটবল স্টেডিয়ামসহ ‘বগুড়া উন্নয়ন প্যাকেজ’ ঘোষণা করবেন
তিনি
উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বগুড়াকে বিভাগ করার দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন
করেছে বগুড়াবাসী। বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত শহীদ জিয়ার জন্মস্থান হলেও
বগুড়ার গৃহবধূ বেগম খালেদা জিয়া এবং বগুড়ার ছেলে তারেক রহমান সে দাবির
প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া বগুড়াকে
বিভাগ করার ওয়াদা দিয়েও ক্ষমতায় আসার পর সে ওয়াদা পূরণ করেননি। এবার
রোডমার্চের মহাসমাবেশে বগুড়ায় জনসমাগমে বেগম খালেদা জিয়া বগুড়াকে বিভাগ
অথবা সিটি কপোরেশন করার ওয়াদা দিবেন এমনটাই আশা করেছিলেন বগুড়াবাসী। শেষ
পর্যন্ত খালেদা জিয়া বগুড়ার উন্নয়নে তার ভবিষ্যত পরিকল্পনার কোনো কথা না
বলায় বগুড়াবাসীর মনে যে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল সেই সুযোগটাই কাজে লাগাতে
চাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগাঠনিক সম্পাদক, বগুড়া-১ আসনের
এমপি আব্দুল মান্নান জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বগুড়ায় আসার দিনক্ষণ
ঠিক করা হচ্ছে। এর আগে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী নাসিম বগুড়ায় এসে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর এবং বগুড়ায় জনসভার প্রস্তুতির বিষয়ে দলীয়
নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে গেছেন।
বগুড়ার উন্নয়ন প্যাকেজে থাকছে বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা, বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফুটবল স্টেডিয়ামকে প্রাধান্য দিলেও কৃষি
মেশিনারি শিল্পের বিকাশ, মহাস্থানকে ঘিরে পর্যটন এলাকা গড়া, যমুনা নদীতে
ড্রেজিংয়ে নাব্য ফিরিয়ে আনা, দ্বিতীয় বিসিক শিল্প নগরী গড়ে তোলা, বগুড়া
থেকে সিরাজগঞ্জ রেলপথ স্থাপন, ছেলে ও মেয়েদের জন্য আরো দু’টি সরকারি শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, সাংবাদিকদের আবাসন, প্রেস ক্লাবের ভবন নির্মাণ।
আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, এবার বগুড়ার উন্নয়নে বগুড়া সিটি কর্পোরেশন
ঘোষণাসহ অন্যান্য উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। গত আওয়ামী লীগের সময়ে
যমুনার ভাঙন রক্ষায় সাড়ে ৫০০ কোটি টাকা হার্ড পয়েন্ট নির্মাণ, বিমান বন্দর
নির্মাণ, মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালকে আড়াইশ শয্যায় উন্নীত, মসলা গবেষণা
কেন্দ্র, দ্বিতীয় বাইপাসের প্রস্তাবনা, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নির্মাণ
ছিল উল্লেখযোগ্য। আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, এবারেও যদি বগুড়ার উন্নয়নে আওয়ামী লীগ তাদের
পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে তাহলে আগামীতে বিএনপির ঘাঁটি বগুড়ায় আওয়ামী
লীগের সমর্থন আরো বাড়বে। অন্তত আরো কিছু আসন বিএনপির হাতছাড়া হয়ে আওয়ামী
লীগের হাতে আসবে।
এফবিসিসিআই’র অন্যতম পরিচালক বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড
ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি মমতাজ উদ্দীন বলেন, “বগুড়াবাসী
বিএনপির ধোঁকায় পড়ে প্রতারিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বগুড়ার
উন্নয়নে আন্তরিক। এবারে বগুড়ার উন্নয়নে সত্যিই কিছু হবে বলে আমরা আশা
করছি।” এ বিষয়ে বগুড়া অ্যাডভোকেটস বার এসোসিয়েশনের সদস্য বিশিষ্ঠ লেখক ও আইনজীবী
এম এ কে আজাদ বলেন, “বগুড়ার উন্নয়নে উল্লেখিত পরিকল্পনার কিছুটাও যদি
আওয়ামী লীগ বাস্তবায়ন করে তাহলে বগুড়ায় ভোটের রাজনীতি পাল্টে যাবে। বগুড়ায়
বিভাগ করতে চেয়ে না করায় বিএনপি গত নির্বাচনে দুটি আসন হারিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি সিটি কর্পোরেশনের ঘোষণা দেন তাহলে আরো আসন
আওয়ামী লীগের হাতে আসতে পারে।”
প্রতীক্ষায় আছে বগুড়াবাসী। দেখা যাক সরকার এবার কি প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে নিজেদের মুক্ত দেখাতে পারেন কিনা?
বিষমুক্ত সবজি বিপ্লব বগুড়াতে
রাসায়নিক সার,কীটনাশক ছাড়াও যে ফসল ভালো হয়, ফসলকে এবং নিজেকে বিষমুক্ত
রাখা যায় এটা গ্রামগঞ্জের অনেক কৃষক জানে না । যার কারণে অনিচ্ছা সত্ত্বেও
ফসল বাঁচাতে এই বিষ প্রয়োগ করেন তারা। পরিণতিতে কৃষক নিজে এবং সেই ফসলের
ক্রেতাকে ধীরে ধীরে নিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুপথে। এটা একটি গতানুগতিক ধারায় পরিণত
হলেও বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার কামারপাড়া গ্রামের দৃশ্য একেবারেই
অন্যরকম। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই অর্গানিক সবজি চাষে
বিপ্লব ঘটিয়েছেন বগুড়ার চাষীরা। বিষমুক্ত এই সবজি চাষে একদিকে খরচ যেমন কম
অন্যদিকে ফলন এবং দাম দুটোই বেশি। এতে করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন বেশি। প্রথমে একজনের দেখাদেখি পুরো গ্রাম এবং এক গ্রামের দেখাদেখি কমপক্ষে ৩০টি
গ্রামজুড়ে এই বিষমুক্ত অর্গানিক সবজি চাষের বিপ্লব ছড়িয়ে পড়েছে। আর এই নিরব
বিপ্লবে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের
বিজ্ঞানীরা।এখানে বিষমুক্ত ফসল ফলাতে কৃষকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে বৈঠক করেন।
নিজের বাড়ির আঙ্গিনায় কেঁচো দিয়ে তৈরি করা কম্পোষ্ট সার এবং লতাপাতা দিয়ে
তৈরি ভেজস ওষুধ দিয়ে জমি চাষ করেন। এটা করেই রীতিমতো সবজি বিপ্লব করে
ফেলেছেন তারা।
কামারপাড়া গ্রামের দেখাদেখি আশেপাশে আরো ৩০টি গ্রাম এখন এই বিষমুক্ত সবজি
আন্দোলনের সাথে যুক্ত হয়েছে। গ্রামের মহিলারা গনসচেতনতা সৃষ্টি করতে বাড়ি
বাড়ি গিয়ে রায়াসনিক সারের এবং কীটনাশকের খারাপ দিকগুলো তুলে ধরছেন। সবাইকে
সচেতন করছেন।
এলাকার কৃষকরা জানান, দেড় বছর আগে এই গ্রামের আরেক কৃষক
সাইদুর রহমানের চোখ নষ্ট হয়ে যায় কীটনাশক স্প্রে করার কারণে। মূলত এরপর
থেকে তিনি এ ব্যাপারে সচেতনতার কাজ শুরু করেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মোঃ
রোস্তম আলী এই কাজে তাদের সহযোগিতা করেন। আগে যখন কৃষকরা এ ব্যাপারটি
বুঝতোই না, এখন সেখানে সচেতন কৃষকের সংখ্যা দুই শতাধিক। কৃষি
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ভাড়া নেয়া একটি কক্ষে তারা নিয়মিত বৈঠক করেন।
একে অপরের সাথে পরামর্শ করেন। এরমধ্যে ২০ জন মহিলা কৃষকও রয়েছেন। বিষমুক্ত সবজি চাষ পদ্ধতির চাষীরা জানান, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার
না করে এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করলে খরচ পড়ে তিন ভাগের এক ভাগ। ফলন হয় বেশি।
সবজির চেহারা হয় সতেজ। যার কারণে রাসায়নিক বিষক্রিয়া ছাড়াও যে ভালো ফসল হয়
এটা তারা এলাকার কৃষককে দেখিয়ে দিয়েছে নিজেরা চাষ করে। এখন তাদের দলে যোগ
হয়ে অন্যরা। কামারপাড়া গ্রামটি মরিচ চাষের জন্য বিখ্যাত। মরিচ চাষী সিদ্দিক বার্তা২৪
ডটনেটকে জানান, সাধারণভাবে জমি চাষ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে রাসায়নিক সার,
কীটনাশক, সেচ থেকে শুরু করে বাজারজাত করা পর্যন্ত একটি জমিতে ধাপে ধাপে খরচ
হয় সাড়ে ৬ হাজার টাকা। এই জমি থেকে ফলন পাওয়া যায় ৫০ মন মরিচ। ৫০০ টাকা
প্রতি মন দরে বিক্রি করলেও এই মরিচের দাম পড়ে ২৫ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে
লাভ থাকে সাড়ে ১৮ হাজার টাকা। তিনি জানান, অন্যদিকে অর্গানিক পদ্ধতিতে এই জমিটি চাষ করা হলে খরচ পড়ে তিন
ভাগের এক ভাগ। উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, এই পদ্ধতিতে জমি তৈরির সময় গবর সার
দিতে হয়। এরপর সেচে দেয়ার আগে দিতে হয় ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো ও গবর দিয়ে
তৈরি করা স্থানীয় পদ্ধতির সার) দিতে হয় ১৫ থেকে ২০ কেজি। এরপর পোকা মারার
জন্য তারা ব্যবহার করেন ভেজস ওষুধ। নিমপাতা, বিষকাটালি, পিতরাজ, থনেকুনি,
ধুতুরা, ভেরেন্ডা দিয়ে তারা তৈরি করেন একটি নির্যাস। যা প্রতি লিটার পানিতে
মাত্র ৫০ গ্রাম মিশিয়ে জমিতে স্প্রে করলে ফসলে কোনো পোকামাকড় থাকে না। গাছ
বাঁচে বেশিদিন। ফলন হয় অনেক বেশি। ফসলের চেহারা হয় চকচকে এবং বিষমুক্ত। এই
পদ্ধতিতে ১০ শতাংস জমি চাষে খরচ পড়ে মাত্র দুই হাজার টাকা। ফসল পাওয়া যায়
৫৫ থেকে ৬০ মন। একই ভাবে ৫০০ টাকা মন হিসেবে বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়েও
তাদের লাভ হয় ২৮ হাজার টাকা।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর ডা.মোঃ রোস্তম
আলী জানান, বিষমুক্ত সবজি চাষের এই বিপ্লব এখন ছড়িয়ে গেছে
শাহজাহানপুর উপজেলার একাধিক গ্রামে। এই উপজেলার ফুলকোট, বিলকেশপাতা,
জৈন্তবাড়ি, বৃকুষ্টিয়া, বিহিগ্রাম, দহিকান্দি, বড়পাথার, চুপিনগর, বোহাইল,
দুসকুল্লা, মোস্তাইল, হাসুরিয়া, খলিশাকান্দি, দুরুলিয়া, ডেমাজানি, বানরা,
চন্ডিজান, রামেশ্বরপুর, শিবপুর, রামনগর, জোয়ানপুর, রাধানগর, গাড়িদহ ও
সোনাইদিঘী গ্রামের কৃষকরা এখন এই ভেজস পদ্ধতিতে সবজি চাষ করেন। সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে এই সবজির দাম বেশি না হলেও চাহিদা অনেক
বেশি। হাটে সবজি নেয়া যাবার পরপরই পাইকাড়রা প্রথমে তাদের সবজি কিনে নিয়ে
যায়। বিক্রির জন্য কখনো বসে থাকতে হয় না। তিনি জানান, বিষমুক্ত সবজি চাষে
কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে তারা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ১০০ কৃষককে দু’টি
করে সিমেন্টের তৈরি রিং দিয়েছেন। এই রিংয়ের মধ্যেই ভার্মি কম্পোস্ট সার
তৈরি করেন তারা। এরপর অনেক কৃষক নিজেরাই বাঁশ দিয়ে তৈরি করা মাচাংয়ে ভার্মি
কম্পোস্ট সার তৈরি করেন। কামারপাড়া গ্রামের মহিলা কৃষকরা জানান, তারা বাড়ির আঙ্গিনায় নিজেরাই ভেজস
পদ্ধতিতে সবজি চাষ করেন। ভেজস রস তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় গাছপালা গ্রামে
অনেক আছে। সেগুলো পাটায় থেতলা করে তারা রস তৈরি করেন। সেই রস বোতলে রেখে
ব্যবহার করা যায় ছয় মাস পর্যন্ত। নিজেরা যেমন বাড়ির আঙ্গিনায় এই পদ্ধতি
তারা ব্যবহার করেন, তেমনি অন্যদেরও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করেন।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শেষ
গতকাল ২৬শে Dec উত্তরবঙ্গের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো ভর্তি পরীক্ষা। মোট ৬৬৫ আসনের বিপরীতে প্রায় পনের হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
সরকারের আবুলদের অবহেলায় সড়ক নষ্ট, আজ মানববন্ধন ও অবরোধ
নীলফামারী-ডোমার ২২ কিলোমিটার সড়ক চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সড়কটি সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন ও অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে
নীলফামারী জেলাবাসী।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়কজুড়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচি পালনে এই এলাকায় মাইকে প্রচার ও প্রচারপত্র বিতরণ ছাড়া পথসভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নীলফামারী থেকে ডোমার পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়কটি খানাখন্দে ভরা। আধা ঘণ্টার রাস্তা বাসে বা মোটরসাইকেলে পাড়ি দিতে এখন সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। ভাঙা রাস্তার কারণে প্রায় প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস চলছে সীমিতসংখ্যক।
মাইক্রোবাসচালক জাভেদ আলী বলেন, এ পথে গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায় না। সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনি গাড়ির যন্ত্রাংশও নষ্ট হয়। এ কারণে বেশি ভাড়া নিতে হয়।
বাসযাত্রী রুহুল আমিন বলেন, নীলফামারী থেকে ডোমারে গিয়ে অফিস করতে সকাল সাতটায় বের হয়েও সময়মতো পৌঁছা যায় না। রাস্তার যে অবস্থা, তাতে আরও ৫০ কিলোমিটার অতিরিক্ত ঘুরে গেলেও এত সময় লাগবে না।
এলাকার লোকজন জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে সড়কটির অবস্থা এমন হলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ডোমারের আইয়ুব আলী (৫০) বলেন, আগে একটু-আধটু রাস্তায় প্রলেপ দিতে দেখা গেলেও পাঁচ বছর ধরে ওই সড়কে এক কোদাল মাটিও দেওয়া হয়নি।
জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান আলী চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো গাড়ির মালিক ওই পথে গাড়ি চালাতে চান না। প্রায় প্রতিদিন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয় অথবা গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনার শিকার হয়। আমরা মালিকদের অনুরোধ করে যান চলাচল অব্যাহত রেখেছি। কিন্তু আর পারা যাচ্ছে না। শিগগিরই রাস্তাটি মেরামত না হলে বাস চলাচল বন্ধ করে দিতে হবে।’
সংস্কারকাজ বন্ধ: প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে আরএনআই এমপি-২ নীলফামারী প্রকল্পের আওতায় ওই সড়কের উন্নয়নকাজের দরপত্র-প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজই শুরু করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এ সময়ের মধ্যে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই প্রকল্পে ঋণ-সহায়তা দিচ্ছে এডিবি। ঋণ দেওয়ার সময় শেষ হবে ৩০ জুন ২০১২। কিন্তু এত কম সময়ের মধ্যে ২২ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ করা সম্ভব নয় বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এক বছর ঋণের সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। নইলে তারা এ কাজ করতে পারবে না।
এ অবস্থায় জেলাবাসীর পক্ষে গত শনিবার নীলফামারী চেম্বার ভবনে জরুরি সভা হয়। সভায় মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করার সিদ্ধান্ত হয়। সড়কটি সংস্কারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মাহবুবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্পের আওতায় এডিবির ঋণ-সহায়তায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী-মধ্যপাড়া ৩১ কিলোমিটার ও নীলফামারী-ডোমার হয়ে পঞ্চগড়ের বোদা পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটারসহ মোট ৮২ কিলোমিটার সড়কের কাজ ১৯৭ কোটি টাকায় নির্মাণের জন্য ২০০৮ সালের আগস্ট মাসে তিন বছরের সময় নির্ধারণ করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু দিনাজপুর ও পঞ্চগড় অংশের কাজ সময়মতো শেষ হলেও নীলফামারী-ডোমার ২২ কিলোমিটার সড়কের জায়গা সময়মতো বুঝে দিতে না পারায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তাই ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত এডিবির ঋণের সময় বাড়ানোর দাবি করা হচ্ছে।
প্রকল্পের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাজেদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিন বছর আগে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জমি হস্তান্তরে বিলম্ব হয়েছে।
নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ সরকার বলেন, ‘দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ের অংশের কাজ শেষ হলেও নীলফামারীর কাজটি শুরু না হতেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা মানববন্ধন করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়কজুড়ে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচি পালনে এই এলাকায় মাইকে প্রচার ও প্রচারপত্র বিতরণ ছাড়া পথসভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নীলফামারী থেকে ডোমার পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়কটি খানাখন্দে ভরা। আধা ঘণ্টার রাস্তা বাসে বা মোটরসাইকেলে পাড়ি দিতে এখন সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। ভাঙা রাস্তার কারণে প্রায় প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস চলছে সীমিতসংখ্যক।
মাইক্রোবাসচালক জাভেদ আলী বলেন, এ পথে গাড়ি নিয়ে যাওয়া যায় না। সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনি গাড়ির যন্ত্রাংশও নষ্ট হয়। এ কারণে বেশি ভাড়া নিতে হয়।
বাসযাত্রী রুহুল আমিন বলেন, নীলফামারী থেকে ডোমারে গিয়ে অফিস করতে সকাল সাতটায় বের হয়েও সময়মতো পৌঁছা যায় না। রাস্তার যে অবস্থা, তাতে আরও ৫০ কিলোমিটার অতিরিক্ত ঘুরে গেলেও এত সময় লাগবে না।
এলাকার লোকজন জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে সড়কটির অবস্থা এমন হলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ডোমারের আইয়ুব আলী (৫০) বলেন, আগে একটু-আধটু রাস্তায় প্রলেপ দিতে দেখা গেলেও পাঁচ বছর ধরে ওই সড়কে এক কোদাল মাটিও দেওয়া হয়নি।
জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান আলী চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো গাড়ির মালিক ওই পথে গাড়ি চালাতে চান না। প্রায় প্রতিদিন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয় অথবা গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনার শিকার হয়। আমরা মালিকদের অনুরোধ করে যান চলাচল অব্যাহত রেখেছি। কিন্তু আর পারা যাচ্ছে না। শিগগিরই রাস্তাটি মেরামত না হলে বাস চলাচল বন্ধ করে দিতে হবে।’
সংস্কারকাজ বন্ধ: প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে আরএনআই এমপি-২ নীলফামারী প্রকল্পের আওতায় ওই সড়কের উন্নয়নকাজের দরপত্র-প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম লিমিটেডকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজই শুরু করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এ সময়ের মধ্যে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, এই প্রকল্পে ঋণ-সহায়তা দিচ্ছে এডিবি। ঋণ দেওয়ার সময় শেষ হবে ৩০ জুন ২০১২। কিন্তু এত কম সময়ের মধ্যে ২২ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষ করা সম্ভব নয় বলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এক বছর ঋণের সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। নইলে তারা এ কাজ করতে পারবে না।
এ অবস্থায় জেলাবাসীর পক্ষে গত শনিবার নীলফামারী চেম্বার ভবনে জরুরি সভা হয়। সভায় মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করার সিদ্ধান্ত হয়। সড়কটি সংস্কারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মাহবুবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্পের আওতায় এডিবির ঋণ-সহায়তায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী-মধ্যপাড়া ৩১ কিলোমিটার ও নীলফামারী-ডোমার হয়ে পঞ্চগড়ের বোদা পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটারসহ মোট ৮২ কিলোমিটার সড়কের কাজ ১৯৭ কোটি টাকায় নির্মাণের জন্য ২০০৮ সালের আগস্ট মাসে তিন বছরের সময় নির্ধারণ করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু দিনাজপুর ও পঞ্চগড় অংশের কাজ সময়মতো শেষ হলেও নীলফামারী-ডোমার ২২ কিলোমিটার সড়কের জায়গা সময়মতো বুঝে দিতে না পারায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তাই ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত এডিবির ঋণের সময় বাড়ানোর দাবি করা হচ্ছে।
প্রকল্পের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাজেদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিন বছর আগে কার্যাদেশ দেওয়া হলেও ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জমি হস্তান্তরে বিলম্ব হয়েছে।
নীলফামারী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ সরকার বলেন, ‘দিনাজপুর ও পঞ্চগড়ের অংশের কাজ শেষ হলেও নীলফামারীর কাজটি শুরু না হতেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা মানববন্ধন করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আগামী বৈঠকে উঠবে বিএনপির জোট সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত
খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে রাত ৯টা ২৫ মিনিটে চারদলীয় জোটের বৈঠক শুরু হয়ে চলে ঘণ্টাব্যাপী। বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সংলাপের বাইরে চার দলের জোট সম্প্রসারণ, চট্টগ্রামের রোড মার্চ ও লিয়াজোঁ কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, “শিগগিরই চারদলীয় জোটের সম্প্রসারণ হবে। আগামী ২৯ ডিসেম্বর রাতে চার দলের বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।” জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “আগামী বৈঠকেই কোন কোন দল জোটে অন্তুর্ভুক্ত হবে সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।” খেলাফত মজলিশের আমীর মুহাম্মদ ইসহাক বলেন, “২৯ ডিসেম্বর চার দলের বৈঠকে জোটের নামকরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।” খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মজিবুর রহমান, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, মহাসচিব শামীম আল মামুন, খেলাফত মজলিশের আমীর অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসহাক, মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদ আবদুল কাদের, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি ফয়েজউল্লাহ, জমিয়তে উলামা ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শাহীনুর পাশা চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রয়াত জিয়াউর রহমানের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদের গড়া নতুন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চারদলীয় জোটে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে চলতি মাসেই ঘোষণা আসবে বলে এর আগে বলেছিলেন অলি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল।
চার দলের সর্বশেষ বৈঠক হয় গত ৮ ডিসেম্বর।
সংলাপের পথে বিএনপি
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে মত দিতে রাষ্ট্রপতির সংলাপে যোগ দেবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট। সোমবার রাতে খালেদা জিয়ার সঙ্গে চার দলের নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের
পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের
বলেন, “চার দলের বৈঠকে শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া
হয়েছে।” আগামী ১১ জানুয়ারি সংলাপে অংশ নিতে সোমবার বিকেলে
রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে আমন্ত্রণ পায় বিএনপি। দলটি ইতিমধ্যে বলেছে,
রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তারা এ সংলাপ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া
জানাবে। তবে দলটি এও বলে আসছিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনবর্হালের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর তারা নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন বিষয়ে সংলাপে আগ্রহী। গত ৩০ জুন পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। চারদলীয়
জোটের শরিক ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে আগামী ১ জানুয়ারি এবং এর পরদিন
বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে সংলাপ করবেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর
রহমান। দলগুলোর কাছে ইতিমধ্যে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছেছে।
চার দলের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “রাষ্ট্রপতির সংলাপের বিষয়বস্তু নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।” তবে জামায়াত সংলাপের কোনো আমন্ত্রণ পায়নি বলে জানান মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে আগামী ১২ জানুয়ারি সংলাপে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে সোমবারই চিঠি দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ফেব্র“য়ারির মাঝামাঝি। এ পরিপ্রেক্ষিতে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে মতামত জানতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে গত ২২ ডিসেম্বর সংলাপ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান।
সোমবার পর্যন্ত দুই দফায় জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংলাপ করেছেন রাষ্ট্রপতি।
চার দলের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “রাষ্ট্রপতির সংলাপের বিষয়বস্তু নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।” তবে জামায়াত সংলাপের কোনো আমন্ত্রণ পায়নি বলে জানান মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুল। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে আগামী ১২ জানুয়ারি সংলাপে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে সোমবারই চিঠি দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ফেব্র“য়ারির মাঝামাঝি। এ পরিপ্রেক্ষিতে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে মতামত জানতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে গত ২২ ডিসেম্বর সংলাপ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান।
সোমবার পর্যন্ত দুই দফায় জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংলাপ করেছেন রাষ্ট্রপতি।
বিরোধী দলকে আন্দোলনের সুযোগ না দিলে পরিণতি পরিণতি হবে দেশের সরকারের জন্য খুবই খারাপ > ফখরুল
প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের অধিকার আছে আন্দোলন করার এবং তা হবে গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক। বিরোধী দলকে স্বাভাবিক, গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলনের সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে পরিণতি হবে ভয়াবহ। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি
মোস্তাফিজুর রহমানকে দেখার পর গতকাল সোমবার সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য
করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার এখন সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। আর এ কাজে পুলিশ আরও সহযোগিতা করছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা লেবার পার্টির প্রধানের ওপর মতিঝিলে হামলা করেছে। তাঁকে হামলার মধ্য দিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আরও একটি নজির স্থাপন করল।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার এখন সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। আর এ কাজে পুলিশ আরও সহযোগিতা করছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা লেবার পার্টির প্রধানের ওপর মতিঝিলে হামলা করেছে। তাঁকে হামলার মধ্য দিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আরও একটি নজির স্থাপন করল।
সংলাপের জন্য রাষ্ট্রপতি চিঠি, আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সংলাপে বসতে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী
লীগ ও বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান। সোমবার
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে দল দুটির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতি
প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আগামী ১১ জানুয়ারি, তার
পরদিন তিনি বসবেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে। বর্তমান
নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ফেব্র“য়ারির মাঝামাঝিতে। তাই নতুন
নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে মতামত জানতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে গত ২২
ডিসেম্বর সংলাপ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি। সোমবার পর্যন্ত চারটি দলের সঙ্গে
সংলাপ করেছেন তিনি। আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি
দাশ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক বরাবর ১০
সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে সংলাপে অংশ নিয়ে বঙ্গভবনের দেওয়া চিঠি তারা
পেয়েছেন। চিঠিতে আগামী ১২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় বঙ্গভবনে এ সংলাপ হবে বলে উল্লেখ করা হয়। বিএনপির
যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের জানান, বেলা ৩টায় ফ্যাক্সে
এবং বিকাল ৪টায় বিশেষ ডাকে রাষ্ট্রপতির সংলাপের চিঠি তাদের কার্যালয়ে
এসেছে। তিনি বলেন, চিঠিতে আগামী ১১ জানুয়ারি বঙ্গভবনে সংলাপে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বিএনপি ইতিমধ্যে বলেছে, রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তারা এ সংলাপ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে।
তবে রাষ্ট্রপতির বদলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংলাপের উদ্যোগ নিলে আরো ভালো হতো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রিজভী জানান, রাষ্ট্রপতির চিঠিটি সোমবারই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে। দলের নীতিনির্ধারকরা বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন, বলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি এ পর্যন্ত দুই দফায় জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (ইনু), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় পার্টির (জেপি) সঙ্গে সংলাপ করেছেন।
বিএনপি ইতিমধ্যে বলেছে, রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ পাওয়ার পর তারা এ সংলাপ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে।
তবে রাষ্ট্রপতির বদলে প্রধানমন্ত্রী নিজেই সংলাপের উদ্যোগ নিলে আরো ভালো হতো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রিজভী জানান, রাষ্ট্রপতির চিঠিটি সোমবারই দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে। দলের নীতিনির্ধারকরা বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন, বলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি এ পর্যন্ত দুই দফায় জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (ইনু), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় পার্টির (জেপি) সঙ্গে সংলাপ করেছেন।
Subscribe to:
Posts (Atom)


