Thursday, December 29, 2011

অস্থির রাজশাহীর ওষুধের বাজার

রাজশাহীতে ওষুধের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত কয়েক মাসে লাগামহীন দাম বেড়েছে অতি প্রয়োজনীয় ওষুধের। কিন্তু দামের লাগাম টেনে ধরার কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। হঠাৎ ওষুধের মূল্য বেড়ে যাওয়া এবং স্থানভেদে দামের ব্যাপক তারতম্যের কারণে ওষুধ কিনতে ভোক্তারা প্রতিনিয়ত নাজেহাল হচ্ছেন। ওধুষ কোম্পানির কর্মকর্তাদের দাবি, বিশ্ববাজারে ওষুধ তৈরির কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ওষুধের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টার রাজশাহীর আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মোশারফ হোসেন বলেন, 'বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ার পরও আমরা ওষুধের দাম বাড়াইনি। যেটুকু বেড়েছে তা স্বাভাবিক।'
২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার আগে ওষুধের দাম বাড়া শুরু হয়েছে। কোনো কোনো ওষুধের দাম ১০ পয়সা থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন। ফার্মেসিগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন ওষুধের দাম কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্যাকেটের গায়ে মূল্য লেখা থাকলেও আলাদা স্টিকার লাগিয়ে কোম্পানি দাম বাড়িয়েছে বলে জানান লক্ষ্মীপুর এলাকার এক ফার্মাসিস্ট। রাজশাহীর কয়েকটি এলাকা ঘুরে ওষুধের দামের তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। ওষুধ কোম্পানি স্কয়ারের ট্যাবলেট প্রতি প্যাকেট লক্ষ্মীপুর এলাকায় বিক্রি হচ্ছে ৩৯০ টাকায়। আবার সাহেববাজার বড় মসজিদের কাছে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে বিভিন্ন কোম্পানির ইনহেলারের। শীতের অতি প্রয়োজনীয় ওষুধগুলোর দাম বেড়েছে হঠাৎ। সর্দিকাশি থেকে মুক্তি পাওয়ার অতি প্রয়োজনীয় নজল ড্রপের দাম কয়েক দিন আগেও ছিল ৭ থেকে ৮ টাকা। এখন তা ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। হৃদরোগের সব ওষুধের দাম বেড়েছে। গ্যাসের ওষুধ সারজেল প্রতি পাতা ৩৫ টাকা বিক্রি হতো, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ টাকা। সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির (এসএমসি) উৎপাদিত জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীগুলো নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ফেমিকন প্যাকেটের গায়ে ২৫ টাকা লেখা থাকলেও তা পাইকারি ৪০ টাকায় এবং খুচরা বাজারে তা ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নোরেট-২৮ প্যাকেটের গায়ে ২৩.৫২ টাকা দাম লেখা থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকায়। নরডেট-২৮ প্যাকেটের গায়ে ৩৮.৮৫ টাকা লেখা থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়।
সোশ্যাল মার্কেটিং কোম্পানির সেলস ম্যানেজার মোঃ নুরুন নবী জানান, তারা খুচরা মূল্য লেখা অনুযায়ী বিক্রির জন্য ফার্মেসি মালিকদের পরামর্শ দেন। তবে অনেকে বাজারে সরবরাহ ও চাহিদা অনুযায়ী দামের তারতম্য করে থাকেন। এসএমসির পক্ষ থেকে নরডেট-২৮ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও অনেক ফার্মেসিতে তা আছে। বাজারে সরবরাহ নেই এই অজুহাতে অনেকে বেশি দাম আদায় করছেন। রাজশাহী ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মির্জা মোঃ আনোয়ারুল বাসেদ জানান, ওষুধের দাম বেড়েছে সত্য। বিশ্ববাজারে কাঁচামাল এবং ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে কোম্পানিগুলো ওষুধের দাম বাড়িয়েছে। তিনি বাজার ঘুরে জানতে পেরেছেন সব ধরনের ওষুধের দাম বেড়েছে। তবে কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর কারণে তাদের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কিছু করার নেই বলে তিনি জানান।

No comments:

Post a Comment